অষ্টগ্রামে ৪ কেজি গাঁজা ও ৪৬ পিস ইয়াবাসহ ৭ জন গ্রেপ্তার
বিজয় কর রতন, কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি:
কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে পৃথক দুটি মাদকবিরোধী অভিযানে ৪ কেজি গাঁজা ও ৪৬ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার (২৯ আগস্ট) ভোর রাতে উপজেলার পূর্ব অষ্টগ্রাম ইউনিয়নের পৃথক দুটি স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, অষ্টগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) পুলিশ পরিদর্শক (নিঃ) মোহাম্মদ রুকনুজ্জামানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল পূর্ব অষ্টগ্রাম ইউনিয়নের ইকুরদিয়া ঘাট সংলগ্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে।
এ সময় মো. সালাউদ্দিনের হোটেলের সামনে পাকা রাস্তার ওপর থেকে হৃদয় মিয়া (১৯) ও ফয়সাল আহমেদ (২০) নামে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার দুজনের হেফাজতে থাকা পৃথক দুটি কালো স্কুলব্যাগ তল্লাশি করে প্রতিটি ব্যাগ থেকে ২ কেজি করে মোট ৪ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় অষ্টগ্রাম থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) সারণির ১৯(ক) ধারায় মামলা করা হয়েছে। মামলার নম্বর ১৭।
অন্যদিকে একই দিন পূর্ব অষ্টগ্রাম ইউনিয়নের শেখেরহাটি এলাকায় রবিন মিয়া (৩৮) নামে এক ব্যক্তির চারচালা টিনের বসতঘরে অভিযান চালায় পুলিশ। সেখান থেকে বদু ওরফে বুছা (৪৬), মো. বাবুল মিয়া ওরফে বাবলু (৩৫), মো. আকাশ মিয়া (২৫), সাদ্দাম মিয়া (৩১) ও রাজীব খাঁ (৩৩) নামে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার পাঁচজনের হেফাজত থেকে সর্বমোট ৪৬ পিস কমলা রঙের ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় অষ্টগ্রাম থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) সারণির ১০(ক)/৪১ ধারায় মামলা করা হয়েছে। মামলাটির নম্বর ১৮ ।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার বদু ওরফে বুছার বিরুদ্ধে অষ্টগ্রাম থানায় এর আগেও একাধিক মামলা রয়েছে।
এর মধ্যে ২০১৯ সালের ১৮ জানুয়ারির একটি মামলায় দণ্ডবিধির ১৪৩/৪৪৭/৩২৩/৩২৫/৩২৬/৩০৭/৩৭৯/৫০৬(২)/১১৪ ধারায় মামলা রয়েছে। এছাড়া ২০২৫ সালের ১ নভেম্বর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) সারণির ১৯(ক) ধারায়, ২০২৪ সালের ৯ জুন একই আইনের একই ধারায় এবং ২০২৩ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) সারণির ১০(ক), ১৯(ক) ও ৪০ ধারায় তার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
অষ্টগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ রুকনুজ্জামান জানান, অষ্টগ্রাম থানার ওসি মোহাম্মদ রুকনুজ্জামানের নেতৃত্বে পরিচালিত এসব অভিযানে মাদক উদ্ধার ও সংশ্লিষ্টদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে পৃথক মামলা দায়ের করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।