অষ্টগ্রামে আদালত কর্তৃক উচ্ছেদ অভিযানের স্থানে উচ্ছেদ না করে অন্যত্র লুটপাটের অভিযোগ
বিজয় কর রতন, কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি:
কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলার কাস্তুল ইউনিয়নের কাস্তুল মৌজায় আদালতের রায়ের ভিত্তিতে পরিচালিত উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, আদালতের রায়ে উল্লেখিত জমির পরিবর্তে একই দাগের অন্য খতিয়ানের জমিতে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এ সময় ছয়টি বসতঘর ভেঙে ফেলা এবং ঘরে থাকা ধান, আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এতে তাদের প্রায় ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।
আজ ২৩ আগস্ট, রবিবার বিকেলে অষ্টগ্রাম উপজেলার জিরো পয়েন্ট এলাকার ‘নিরিবিলি রেস্টুরেন্টে’ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কাস্তুল ইউনিয়নের বাসিন্দা মোছাঃ হাজেরা খাতুন (৪৫), পিতা—সুলেমান মিয়া, কাস্তুল মৌজার ৪২৩ দাগের ৩০১ খতিয়ানের জমি সংক্রান্ত বিষয়ে আদালত থেকে উচ্ছেদের ডিগ্রি লাভ করেন। পরবর্তীতে ওই রায়ের ভিত্তিতে বাজিতপুর দেওয়ানী আদালতের উচ্ছেদকারী কর্মকর্তারা উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেন।
তবে ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার আগে সংশ্লিষ্ট জমির দাগ, খতিয়ান ও মৌজা ম্যাপ যথাযথভাবে যাচাই করা হয়নি। ফলে আদালতের রায়ে উল্লেখিত ৪২৩ দাগের ৩০১ খতিয়ানের জমির পরিবর্তে একই দাগের ৩০২ খতিয়ানের জমিতে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
ভুক্তভোগীদের দাবি, উচ্ছেদ অভিযানের সময় তাদের ছয়টি বসতঘর ভেঙে ফেলা হয়। ঘরবাড়ির পাশাপাশি ঘরের ভেতরে থাকা ধান, আসবাবপত্র ও অন্যান্য মালামালও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে ভাঙচুর ও মালামালের ক্ষয়ক্ষতি মিলিয়ে প্রায় ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে তারা দাবি করেন।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮৪ সালে সাব-কাওলা দলিলের মাধ্যমে ৪২৩ দাগের ৩০২ খতিয়ানের ১০ শতাংশ জমি মোঃ আব্দুল মালেক ও তার ছেলে আব্দুল হাসেম ক্রয় করেন। এরপর থেকে ওই জমিতে বসতবাড়ি নির্মাণ করে তারা দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছেন বলে দাবি পরিবারের।
পরিবারের সদস্যরা জানান, পূর্বপুরুষের ক্রয়কৃত জমিতে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসার পরও সঠিক দাগ, খতিয়ান ও মৌজা ম্যাপ যাচাই না করে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করায় তারা এখন বসতবাড়ি হারিয়ে দুর্ভোগে পড়েছেন। উচ্ছেদের ঘটনায় ছয়টি পরিবারের প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ জন সদস্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলেও দাবি তাদের।
ভুক্তভোগীরা বলেন, আদালতের রায়ের প্রতি তাদের কোনো আপত্তি নেই। আদালতের আদেশ যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা হোক, এটাই তাদের প্রত্যাশা। তবে রায়ের জমির পরিবর্তে অন্য খতিয়ানের জমিতে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়ে থাকলে সেটি তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা বের করা প্রয়োজন।
তাদের দাবি, সরেজমিনে জমি পরিমাপ করে ৪২৩ দাগের ৩০১ ও ৩০২ খতিয়ানের অবস্থান, সীমানা এবং সংশ্লিষ্ট মৌজা ম্যাপ যাচাই করা হোক। একই সঙ্গে উচ্ছেদ অভিযানে ক্ষতিগ্রস্ত বসতঘর ও মালামালের প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হোক।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানানো হয়। তাদের অভিযোগ, আদালতের আদেশ বাস্তবায়নের সময় জমির দাগ, খতিয়ান ও ম্যাপ যথাযথভাবে যাচাই করা হলে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো না।
অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আদালতের উচ্ছেদকারী কর্মকর্তা বা অন্য কোনো দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।