তাহিরপুরে ৩ বছরের শিশু হৃদপিণ্ডের ছিদ্র নিয়ে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে,অর্থের অভাবে বন্ধ চিকিৎসা
মুরাদ মিয়া,তাহিরপুর,সুনামগঞ্জ:
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার মাটিয়াইন হাওরপাড়ের মাটিয়াইন গ্রামের তিন বছরের শিশু সোয়াদ। ফুটফুটে এই শিশুটির শৈশব কাটার কথা ছিল খেলাধুলা আর হাসি-আনন্দে। কিন্তু জন্মের পর থেকেই নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছে সে। এক বছর ধরে শ্বাসকষ্ট ও অতিরিক্ত দুর্বলতা তার নিত্যসঙ্গী। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, সোয়াদের হৃদপিণ্ডে ছিদ্র রয়েছে। দ্রুত অস্ত্রোপচার না হলে তার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হতে পারে। দিনমজুর বাবা কামরুল হাসান ও মা হেনা বেগমের পক্ষে সন্তানের চিকিৎসার এত বড় ব্যয় বহন করা সম্ভব হচ্ছে না। চিকিৎসকদের মতে, সোয়াদের অস্ত্রোপচারের জন্য প্রয়োজন প্রায় ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা। অর্থের অভাবে বর্তমানে তার চিকিৎসাও প্রায় বন্ধ হওয়ার পথে। তাই সন্তানকে বাঁচাতে সরকার ও সমাজের বিত্তবান মানুষের কাছে সহায়তার আকুতি জানিয়েছেন অসহায় বাবা-মা। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, টাঙ্গুয়ার হাওরের পার্শ্ববর্তী উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের মাটিয়াইন গ্রামের দিনমজুর কামরুল হাসান ও হেনা
বেগম দম্পতির সন্তান সোয়াদ। প্রায় এক বছর আগে তার শ্বাসকষ্ট ও শারীরিক দুর্বলতা দেখা দেয়। প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পর তাকে সিলেটে নিয়ে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানো হয়। সেখানে চি-কিৎসকরা তার হৃদপিণ্ডে ছিদ্র থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সোয়াদকে ঢাকায় নেওয়া হয়। সেখানে হৃদরোগ বিশেষজ্ঞরা দ্রুত অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দেন। চিকিৎসকরা জানান, অস্ত্রোপচারে বিলম্ব হলে শিশুটির শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হতে পারে। কিন্তু বিপুল পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন হওয়ায় অস্ত্রোপচার করাতে পারছেন না তার দরিদ্র বাবা-মা। সোয়াদের বাবা কামরুল হাসান বলেন,ঋণ করে এবং আত্মীয়-স্বজনের সহযোগিতা নিয়ে এতদিন ছেলের চি-কিৎসা চালিয়েছেন। কিন্তু এখন সংসারের খরচ চালানো এবং ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে। এর মধ্যে ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা জোগাড় করা তার পক্ষে কোনোভাবেই সম্ভব নয়। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, আমার ছেলেকে বাঁচাতে চাই। কিন্তু টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছি না। সরকার ও সমাজের বিত্তবান মানুষের কাছে অনুরোধ, আমার সন্তানের চি-কিৎসার জন্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিন। সোয়াদের মা হেনা বেগমের চোখেমুখে সন্তানের জন্য গভীর উদ্বেগ। ছেলের অসুস্থতার কথা বলতে গিয়ে বারবার কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। থেমে থেমে বলেন, ছেলেটার যখন শ্বাস নিতে কষ্ট হয়, তখন আমার বুকটা আমার বুকটা ফেটে যায়। দিন-রাত আল্লাহর কাছে দোয়া করি, কেউ যেন আমার সন্তানটাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসে। হাওরপাড়ের এই অসহায় পরিবারের আকুতি, সামর্থ্যবান মানুষের একটু সহযোগিতায় হয়তো আবারও হাসতে পারবে ছোট্ট সোয়াদ।
তার চিকিৎসার জন্য সহায়তা পাঠাতে যোগাযোগ করা যাবে,তার মা হেনা বেগমের বিকাশ পার্সোনাল
নম্বরে: ০১৭০৫-৭৪২৬৬৫