তাড়াইলের বিভিন্ন হাট-বাজারে আগুনে পোড়া টাকার সয়লাব, কারণ নিয়ে জনমনে কৌতুহল
রুহুল আমিন, তাড়াইল (কিশোরগঞ্জ):
কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে ৫,১০ ও ২০ টাকার নতুন কাগুজে নোটের এক বা একাধিক কোণা আগুনে পোড়া অবস্থায় ব্যাপকভাবে লেনদেন হচ্ছে। দেখতে প্রায় ঝকঝকে নতুন হলেও নোটের একটি কোণা আগুনে পোড়া থাকায় এসব নোট নিয়ে বিপাকে পড়ছেন ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়েই। কোথা থেকে এসব নোট আসছে, কেনই বা নতুন নোটের কোণা পুড়ে যাচ্ছে—এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন ও কৌতূহল।
সরেজমিনে রবিবার (১৬ আগষ্ট) তাড়াইল সদর বাজার,কাপড়পট্টি, সিএনজি স্ট্যান্ড, বাসস্ট্যান্ডসহ উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিদিনের স্বাভাবিক লেনদেনে এমন পোড়া কোণাযুক্ত নোটের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। বিশেষ করে ৫,১০ ও ২০ টাকার নোটের মধ্যে এ ধরনের নোট বেশি দেখা যাচ্ছে। অধিকাংশ নোটই দেখতে একেবারে নতুন। কোথাও নোটের এক কোণা সামান্য ঝলসে গেছে, আবার কোনো কোনো নোটে পোড়া অংশ বেশ স্পষ্ট।
স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, তারা ব্যাংক থেকে নতুন নোট সংগ্রহ করলেও সেগুলো কীভাবে পরে পোড়া অবস্থায় বাজারে ফিরে আসছে, তা তাদের জানা নেই। তাদের মতে, বাজারে এমন নোটের সংখ্যা যদি সত্যিই বেড়ে থাকে, তাহলে ব্যাংক, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয়ে বিষয়টি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
তাড়াইল সদর বাজারের কয়েকজন পান-সিগারেট বিক্রেতা ও মুদি দোকানদার বলেন, তরুণদের একটি অংশ বিভিন্ন ধরনের মাদকে আসক্ত। তাদের ধারণা, কোনো কোনো মাদক সেবনের পদ্ধতিতে কাগুজে নোট ব্যবহার করার কারণে নোটের কোণা আগুনে পুড়ে যেতে পারে। তবে এটি তাদের ব্যক্তিগত ধারণা। এ দাবির পক্ষে তারা কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ দেখাতে পারেননি।
রিকশা, অটোরিকশা ও সিএনজির ভাড়া পরিশোধের সময়ও এসব নোট নিয়ে প্রায়ই বাকবিতণ্ডা হচ্ছে। যাত্রীর হাতে থাকা পোড়া কোণাযুক্ত ৫,১০ বা ২০ টাকার নোট চালক নিতে না চাইলে উভয়ের মধ্যে তর্কাতর্কি শুরু হয়। বিশেষ করে স্বল্পমূল্যের ভাড়ার ক্ষেত্রে একটি নোট গ্রহণ না করায় যাত্রীকে নতুন নোট খুঁজতে হয়। কেউ কেউ নোট পরিবর্তন করে দেওয়ার জন্য যাত্রীকে পাশের দোকানে পাঠান। এতে সামান্য কয়েক টাকার ভাড়া পরিশোধ করতেও তৈরি হচ্ছে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি। সাধারণ যাত্রীদের মধ্যেও এ নিয়ে ক্ষোভ ও ভোগান্তি বাড়ছে।
ব্যাংক কর্মকর্তাদের সাথে কথা হলে তারা বলেন, আমরা সাধারণত পোড়া নোটের লেনদেন করি না। তবে অনেক সময় গ্রাহকের সঙ্গে এ নিয়ে মনোমালিন্যের সৃষ্টি হয়। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো—নোটগুলো অনেক সময় একেবারেই নতুন থাকে। নতুন নোট কীভাবে পুড়ে যাচ্ছে, সেটি খতিয়ে দেখা দরকার।
তারা আরও বলেন,বাংলাদেশ ব্যাংক বা অন্যান্য ব্যাংকের শাখায় ছেঁড়া-ফাটা নোট পরিবর্তনের সুযোগ রয়েছে। কোনো ব্যক্তি ছেঁড়া-ফাটা নোট নিয়ে গেলে নোটের ৫১ থেকে ৭৫ শতাংশ অবশিষ্ট থাকলে মূল টাকার ৫০ শতাংশ ফেরত পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। ৭৬ থেকে ৯০ শতাংশ অবশিষ্ট থাকলে ৭৫ শতাংশ এবং ৯০ শতাংশের বেশি অবশিষ্ট থাকলে পুরো মূল্য ফেরত পাওয়ার নিয়ম রয়েছে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তাড়াইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ আবু সালেহ মাসুদ করিম বলেন, কাগজের নোটের এক বা একাধিক কোণা কী কারণে পোড়া থাকে, তা নির্দিষ্ট করে বলা যায় না। হয়তো কোথাও দুর্ঘটনাজনিত আগুনে পুড়তে পারে। অন্যান্য কারণও থাকতে পারে।