শতবর্ষী সরকারি লঞ্চ ‘বনরানী’ ও ‘বনকন্যা’ নিলামে বিক্রির সিদ্ধান্ত, ক্ষুব্ধ খুলনার মানুষ
মো: আল-মাহফুজ শাওন , খুলনা
শতবর্ষী ঐতিহ্য ও স্মৃতিবিজড়িত সরকারি লঞ্চ ‘বনরানী’ ও ‘বনকন্যা’ নিলামে বিক্রির সিদ্ধান্তে খুলনায় উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবন ও খুলনা অঞ্চলের মানুষের যাতায়াত, সরকারি কার্যক্রম এবং নানা ঐতিহাসিক ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকা এই দুই লঞ্চকে নিলামে বিক্রি না করে সংরক্ষণের দাবি জানিয়েছেন পরিবেশপ্রেমী, ইতিহাস-সচেতন নাগরিক ও খুলনার সাধারণ মানুষ।
স্থানীয়দের মতে, ‘বনরানী’ ও ‘বনকন্যা’ শুধু সরকারি নৌযান নয়—এগুলো খুলনা ও সুন্দরবনকেন্দ্রিক নৌ-যোগাযোগের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বছরের পর বছর ধরে নদীপথে চলাচল করা এই লঞ্চ দুটির সঙ্গে সুন্দরবন, উপকূলীয় জনপদ এবং খুলনার মানুষের নানা স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে।
নিলামে বিক্রি করা হলে দেশের নৌ-ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ দুটি নিদর্শন হারিয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন পরিবেশ ও ঐতিহ্যপ্রেমীরা। তাদের দাবি, লঞ্চ দুটির বর্তমান অবস্থা ও ব্যবহারিক উপযোগিতা পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংস্কার করা যেতে পারে। একই সঙ্গে এগুলোকে ঐতিহাসিক নৌযান হিসেবে সংরক্ষণ, জাদুঘর বা পর্যটনকেন্দ্রিক কাজে ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও বলা হচ্ছে।
পরিবেশপ্রেমীরা বলছেন, সুন্দরবন ও খুলনার ইতিহাসের সঙ্গে সম্পর্কিত পুরোনো স্থাপনা, নৌযান ও অন্যান্য নিদর্শন সংরক্ষণ করা গেলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম দেশের ঐতিহ্য সম্পর্কে জানতে পারবে। তাই কেবল অর্থনৈতিক মূল্য বিবেচনা করে শতবর্ষী স্মৃতিবিজড়িত লঞ্চ দুটি নিলামে বিক্রি করা হলে তা হবে অপূরণীয় ক্ষতি।
খুলনার সাধারণ মানুষেরও দাবি, নিলাম প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করার আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত স্থানীয় জনগণ, পরিবেশবিদ, ইতিহাসবিদ ও নৌ-পরিবহন বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়া। পাশাপাশি লঞ্চ দুটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব যাচাই করে সংরক্ষণের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
এদিকে, ‘বনরানী’ ও ‘বনকন্যা’কে ঘিরে খুলনার মানুষের দীর্ঘদিনের আবেগ ও স্মৃতি বিবেচনায় নিয়ে নিলামে বিক্রির সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা। তাদের প্রত্যাশা, সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দেশের নৌ-ঐতিহ্যের এই স্মৃতিচিহ্ন দুটি রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ নেবে।
সচেতন মহলের প্রশ্ন—যে লঞ্চ দুটি একটি সময়ের ইতিহাস বহন করছে, সেগুলো কি কেবল পুরোনো সরকারি সম্পদ হিসেবে নিলামে বিক্রি হবে, নাকি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে সংরক্ষণ করা হবে?