বিদায়বেলায় মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন ইউএনও কাজী নাহিদ ইভা
হোসেনপুর (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি:
হোসেনপুর থেকে বিদায়ের আগে মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন এডিসি পদে সদ্য পদোন্নতি পাওয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা *কাজী নাহিদ ইভা*। বিদ্যালয় পরিদর্শনে গিয়ে শারীরিক প্রতিবন্ধী এক শিশুর অসহায়ত্ব দেখে নিজ উদ্যোগে তার জন্য হুইল চেয়ারের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন তিনি।
তার এই মানবিক উদ্যোগে খুশি শিক্ষক, অভিভাবক ও এলাকাবাসী।শিশুটির নাম *রৌজা*। সে হোসেনপুর পৌরসভার দ্বীপেশ্বর গ্রামের শহিদ মিয়ার মেয়ে এবং *হোসেনপুর ১ নং মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের* প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণির শিক্ষার্থী।
সম্প্রতি বিদ্যালয় পরিদর্শনের সময় ইউএনও কাজী নাহিদ ইভা দেখতে পান, শারীরিক প্রতিবন্ধী রৌজার চলাচলের জন্য কোনো হুইল চেয়ার নেই। মায়ের কোলই ছিল বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়াসহ তার চলাচলের একমাত্র ভরসা। বিষয়টি তার নজরে আসতেই তিনি শিশুটির জন্য দ্রুত একটি হুইল চেয়ারের ব্যবস্থা করার সিদ্ধান্ত নেন।
এরই ধারাবাহিকতায় গত *বৃহস্পতিবার ১৩ আগস্ট বিকেলে উপজেলা পরিষদের প্রাঙ্গণে রৌজার হাতে নতুন হুইল চেয়ার তুলে দেওয়া হয়। হুইল চেয়ারে বসে আনন্দে হেসে ওঠে ছোট্ট রৌজা। দীর্ঘদিনের চলাচলের সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে যেন নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে গেল তার সামনে।
এসময় কাজী নাহিদ ইভা বলেন, “একটি শিশুর হাসিই আমাদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। রৌজার মতো বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুরা যেন শিক্ষা থেকে বঞ্চিত না হয়, সেজন্য আমাদের সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। বিদায়ের আগে যদি একটি শিশুর মুখে হাসি ফোটাতে পারি, তাহলে এটাই আমার জন্য বড় অর্জন।”
তিনি আরও বলেন, “সমাজের বিত্তবান ও সামাজিক সংগঠনগুলো এগিয়ে এলে প্রতিবন্ধী শিশুরা তাদের অধিকার নিয়ে স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারবে।”
হুইল চেয়ার হস্তান্তর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন হোসেনপুর ১ নং মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক *রেবেকা সুলতানা রত্না*, সাংবাদিক *রফিকুল ইসলাম*, *মানিক মিয়া*, *সঞ্জিত চন্দ্র শীল*, কলামিস্ট *মিজানুর রহমান মামুন*, *উজ্জ্বল কুমার সরকার*, *মাহফুজ রাজা* সহ বিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
রৌজার মা আবেগ আপ্লুত হয়ে বলেন, “ম্যাডাম না থাকলে আমার মেয়েটার এই হুইল চেয়ার পাওয়া হতো না। এখন সে নিজে নিজে স্কুলে আসতে পারবে। আল্লাহ ম্যাডামকে ভালো রাখুন।”
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রেবেকা সুলতানা রত্না বলেন, “ইউএনও ম্যাডাম সবসময় আমাদের বিদ্যালয়ের খোঁজ খবর রাখতেন। তার এই মানবিক কাজ আমাদের সকলকে অনুপ্রাণিত করবে।”
উল্লেখ্য, কাজী নাহিদ ইভা সম্প্রতি এডিসি হিসেবে পদোন্নতি পেয়ে হোসেনপুর থেকে বদলি হয়েছেন। বিদায়ের আগ মুহূর্তে তার এই মানবিক কাজ এলাকায় ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।