কুবিতে নি/ষিদ্ধ ছাত্রলীগের পোস্টারিং, প্রতিহত করার ঘোষণা ক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠনগুলোর
কুবি প্রতিনিধি:
নিষিদ্ধ ঘোষিত বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) শাখার পোস্টারিংকে কেন্দ্র করে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে ক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠনগুলো।
বুধবার (১৩ আগস্ট) মধ্যরাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক সংলগ্ন সীমানা প্রাচীরে পোস্টারিং করে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের শাখা নেতৃবৃন্দ।
নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণার পোস্টারিংয়ের মাধ্যমে তাদের কর্মসূচি প্রকাশ্যে আনেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। তবে তাদের এই কর্মসূচিকে প্রতিহত করার জানিয়েছেন অন্যান্য ছাত্রসংগঠনগুলো। অবিলম্বে নিষিদ্ধ সংগঠনে নেতাকর্মীদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।
এ ব্যাপারে জাতীয় ছাত্রশক্তির কুমিল্লা দক্ষিণ জেলার আহ্বায়ক এবং কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগঠক নাঈম ভূঁইয়া বলেন, ‘ আজকে নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি সংগঠন ক্যাম্পাসের দেওয়ালে পোস্টার টানিয়েছে। নিষিদ্ধ সংগঠনের বিষয়ে কোনো ছাড় নয়। ক্যাম্পাসের আশপাশে যে-কোনো সময় তাদের প্রতিহত করতে আমরা প্রস্তুত। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বলব, যত দ্রুত সম্ভব সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার ব্যবস্থা করুন। যে সংগঠন বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি, এবং শিক্ষাঙ্গণে শিক্ষার সুস্থ পরিবেশের জন্য হুমকি তাদের কোনো কার্যক্রমকে প্রশ্রয় দেওয়া চলবে না।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মো. আবুল বাশার বলেন, ‘ কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়কে সন্ত্রাস ও অপরাজনীতি থেকে মুক্ত রাখার অঙ্গীকার যদি-কিন্তু ছাড়াই স্পষ্ট করে বলতে চাই– নিষিদ্ধ ও পতিত আওয়ামী লীগের কোনো কার্যক্রম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় বা এর আশপাশে করতে দেওয়া হবে না। গত ১৭ বছরে সংঘটিত সকল অনিয়ম, দমন-পীড়ন ও অপরাধের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিচার নিশ্চিত করতে হবে।’
ইসলামী ছাত্রশিবির কুবি শাখার সভাপতি মোজাম্মেল হোসেন আবির বলেন, ' নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের নামে ক্যাম্পাসে পোস্টারিং কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। জুলাই অভ্যুত্থানের রক্তাক্ত ইতিহাস ও শিক্ষার্থীদের ওপর তাদের সন্ত্রাসী কার্যক্রম আমরা ভুলিনি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অবিলম্বে চিহ্নিত ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে এবং যে সকল শিক্ষকদের ইন্ধনে তারা মাথাচাড়া দিতে চায়, সে সকল শিক্ষকদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগকে পাওয়া মাত্রই তাদের সন্ত্রাসী কার্যক্রমের হিসাব কড়ায়-গন্ডায় উসুল করা হবে। শিক্ষার্থীদের প্রতি ফোঁটা রক্তের হিসাব নেয়া হবে।
শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান শুভ বলেন, ‘নিষিদ্ধ সংগঠনের কোন কার্যক্রম এবং তাদের তৎপরতা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এবং ক্যাম্পাসের আশেপাশে ১০০ গজের ভেতরে চলতে দেওয়া হবে না। আর এর সাথে যার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যাবে তার হিসাব কঠিন হবে।’