সূর্যগ্রহণ নিয়ে প্রচলিত কুসংস্কার
আজহারুল ইসলাম পিয়াস:
চাঁদ যখন পৃথিবীর কক্ষপথে ঘোরে, তখন তার প্রদক্ষিণ পথে কখনো কখনো চাঁদ এসে পড়ে সূর্য ও পৃথিবীর মাঝখানে। তখন সূর্য থেকে আলোর বিচ্ছুরণ বাধাগ্রস্ত হয় এবং সূর্যের গ্রহণ ঘটে। অন্যভাবে বললে বলা যায়, চাঁদ এই সময় পৃথিবীকে তার ছায়ায় ঢেকে ফেলে। আমরা যাকে ‘সূর্যগ্রহণ’ বলি। সূর্যগ্রহণের মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা তাঁর বান্দাদের ভয় দেখান এবং নিজ ক্ষমতার বহিঃপ্রকাশ ঘটান। তবে সূর্যগ্রহণ নিয়ে সমাজে প্রচলিত কুসংস্কারের অন্ত নেই। তন্মধ্যে গর্ভবতী নারী ও তার গর্ভস্থ ভ্রূণের উপর প্রভাব, গর্ভবতী মা কোন কিছু কাটলে বা ছিড়লে বাচ্চা ঠোঁটকাটা জন্মাবে, কোন কিছু ভাঙলে বা বাঁকা করলে সন্তান বিকলাঙ্গ হয়ে জন্মাবে ইত্যাদি ধরনের কথা যত প্রচলিত আছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। যার সাথে কুরআন–সুন্নাহর কোনো সম্পর্ক নেই। যে আল্লাহ তায়ালা ও শেষ দিবস সম্পর্কে বিশ্বাস রাখে তার মনে রাখা উচিত, চন্দ্র ও সূর্যগ্রহণ মহান রবের অন্যান্য নিদর্শন সমূহের একটি। কেউ যদি চন্দ্র বা সূর্যগ্রহণ দেখে তার উচিত হবে রাসূল (সাঃ)–এর সুন্নাহ অনুযায়ী কাজ করা, বেশি বেশি আল্লাহ তায়ালাকে স্মরণ করা। হাদিসে নববীতে এসেছে, রাসূল (সাঃ) বলেছেন “চন্দ্র ও সূর্য গ্রহণ কারও জন্ম বা মৃত্যুর কারণে লাগে না বরং এ দুটো আল্লাহর নিদর্শন, যা দ্বারা আল্লাহ তাঁর বান্দাকে সতর্ক করেন। অতএব তোমরা যখন গ্রহণ লাগতে দেখ, আল্লাহর জিকিরে মশগুল হও যতক্ষণ তা আলোকিত না হয়ে যায়।” [সহীহ মুসলিম: ১৯৭২]
বস্তুত সূর্যগ্রহণের সময় গর্ভবতী নারী কিংবা কারোর জন্যই জাগতিক কাজকর্ম করাতে কোনো বিধিনিষেধ নেই। এ ব্যাপারে যা প্রচলিত আছে তা কেবলই কুসংস্কার ও ভ্রান্ত বিশ্বাস। এমন ধরনের কোনো নিয়ম মানলে বা বিশ্বাস করলে মারাত্মক গুনাহ হিসেবে বিবেচিত হবে। বরং হাদিসে নববীতে সূর্যগ্রহণকে আল্লাহর নিদর্শন বলা হয়েছে। সূর্যগ্রহণের সময় পুরুষদের মসজিদে জামায়াতের সাথে ‘সালাতুল কুসুফ’ আদায়ের নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে; এর বাইরে গর্ভবতী নারীদের জন্য কোনও সুন্নাহ বা বিধান নেই যা এই সময়ে বিশেষভাবে কিছু থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেয়। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, “চন্দ্র এবং সূর্য এ দুটি আল্লাহর নিদর্শনের অন্যতম। কারও জন্ম বা মৃত্যুর কারণে এদের গ্রহণ হয় না। তাই তোমরা যখন প্রথম গ্রহণ দেখতে পাও, তখন আল্লাহকে স্মরণ কর।” [সহীহ বুখারী: ৪৮১৮]
সূর্যগ্রহণ মহান আল্লাহর নিদর্শনসমূহের একটি; যার মাধ্যমে তিনি নিজ ক্ষমতার বহিঃপ্রকাশ ঘটান। তাই সমাজে প্রচলিত কুসংস্কার পরিহার করে আমরা যেন কুরআন–সুন্নাহর আলোকে পরিশীলিত জীবন গঠন করতে পারি, মহান রব আমাদের সেই তাওফিক দান করুন।
লেখক:
আজহারুল ইসলাম পিয়াস
শিক্ষার্থী, আল-কুরআন এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া