তাড়াইলের মোড়াকান্দি গ্রামের দেড় কিলোমিটার কাঁচা রাস্তায় ভুগছে চার হাজার মানুষ
রুহুল আমিন, তাড়াইল (কিশোরগঞ্জ):
কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার রাউতি ইউনিয়নের মেছগাঁও গ্রামের শেষ সীমানা থেকে মোড়ারকান্দি গ্রামের আবদুল হেলিম মাস্টারের বাড়ি থেকে আবদুল হান্নানের দোকান হয়ে ঈদগাহ ও কবরস্থান পর্যন্ত প্রায় ১ দশমিক ৫০ কিলোমিটার কাঁচা রাস্তায় ভুগছে চার হাজার মানুষ। দ্রুত রাস্তাটি পাকা করে সমস্যা থেকে মুক্তি চান এলাকাবাসী।
গতকাল রোববার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,
রাউতি ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মোড়ারকান্দি গ্রামের প্রায় দেড় কিলোমিটার কাঁচা সড়ক দীর্ঘ ২০ বছরেও পাকা হয়নি। বর্ষা এলেই কাদা-পানিতে একাকার হয়ে যায় সড়কটি। এতে ঈদগাহে নামাজ পড়তে যাওয়া, কবরস্থানে মরদেহ নিয়ে যাওয়া, রোগী হাসপাতালে নেওয়া থেকে শুরু করে শিক্ষার্থী ও কৃষকদের দৈনন্দিন চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের দাবি, মেছগাঁও গ্রামের শেষ সীমানা থেকে মোড়ারকান্দি গ্রামের আবদুল হেলিম মাস্টারের বাড়ি হয়ে ঈদগাহ ও কবরস্থান পর্যন্ত প্রায় ১ দশমিক ৫০ কিলোমিটার কাঁচা সড়কটি দ্রুত পাকা করা হোক। সড়কটি পাকা হলে রাউতি ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মেছগাঁও, মুড়ারকান্দিসহ আশপাশের এলাকার প্রায় চার হাজার মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন।
এলাকাবাসী জানান, প্রায় দুই দশক ধরে সড়কটি কাঁচা অবস্থায় পড়ে আছে। শুকনো মৌসুমে কোনোভাবে চলাচল করা গেলেও বর্ষা মৌসুমে সড়কটি পরিণত হয় কাদা-পানির দুর্ভোগে। সামান্য বৃষ্টিতেই বিভিন্ন স্থানে পানি জমে যায়। তখন পথচারীদের কাদা মাড়িয়ে চলাচল করতে হয়। সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েন রোগী, বয়স্ক মানুষ ও শিক্ষার্থীরা। জরুরি প্রয়োজনে কোনো রোগীকে হাসপাতালে নিতে হলে কাদা-পানির কারণে স্বাভাবিকভাবে যানবাহন চলাচল করতে পারে না। কোনো মানুষের মৃত্যু হলে কবরস্থানে মরদেহ নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রেও পরিবারের সদস্যদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
স্থানীয়রা আরও জানান, ঈদগাহটি এই সড়কের সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় ঈদের দিনও মানুষের দুর্ভোগের শেষ থাকে না। নামাজ পড়তে যাওয়ার সময় কাদা-পানি পেরিয়ে ঈদগাহে যেতে হয়। একইভাবে জানাজা শেষে মরদেহ কবরস্থানে নিয়ে যাওয়ার সময়ও কাঁচা সড়কটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
সরেজমিনে আরও দেখা যায়, কাঁচা সড়কটির আশপাশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান না থাকায় মেছগাঁও গ্রামের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থীকে প্রায় দুই কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে বিদ্যালয়ে যেতে হয়। বর্ষায় কাদা-পানির কারণে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত কঠিন হয়ে পড়ে। অনেক শিক্ষার্থীকে ভিজে ও কাদামাখা অবস্থায় বিদ্যালয়ে পৌঁছাতে হয় বলে জানান স্থানীয়রা।
কৃষকরাও রয়েছেন বিপাকে। স্থানীয় কৃষকদের উৎপাদিত ধান, সবজি ও অন্যান্য কৃষিপণ্য এই সড়ক দিয়ে বাজারে নিতে হয়। কিন্তু বর্ষায় সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে কৃষিপণ্য পরিবহনে অতিরিক্ত সময় ও অর্থ খরচ হয়। অনেক সময় কৃষকদের উৎপাদিত পণ্য সময়মতো বাজারে নিতে না পারায় ক্ষতির আশঙ্কাও থাকে।
রাউতি ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য ফেরদৌস মিয়া বলেন, আমি মেম্বার থাকাকালীন প্রশাসনের সহযোগিতায় জনস্বার্থে এই সড়কটি তৈরি করেছিলাম। দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি কাঁচা অবস্থায় পড়ে আছে। বর্তমানে প্রায় চার হাজার মানুষ এই রাস্তা ব্যবহার করেন। বর্ষাকালে মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। জনস্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি দ্রুত পাকা করা প্রয়োজন। বর্তমান ইউপি সদস্য হলুদ মিয়াও সড়কটি পাকা করার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা আবু তাহের, দীন ইসলাম, আবদুল হাকিম মিয়া, করিম মিয়া, আবু বক্কর, রুস্তম আলী ও আনোয়ার হোসেন সহ অনেকেই বলেন, ২০ বছর ধরে আমরা এই কাঁচা রাস্তার কষ্ট সহ্য করছি। বর্ষা এলে মনে হয় আমরা যেন বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ি। সন্তানদের স্কুলে পাঠানো, রোগী হাসপাতালে নেওয়া, কৃষিপণ্য বাজারে নেওয়া কিংবা মরদেহ কবরস্থানে নিয়ে যাওয়া সব ক্ষেত্রেই দুর্ভোগ পোহাতে হয়। তারা আরও বলেন, ঈদগাহ ও কবরস্থানে যাওয়ার জন্যও যখন কাদা-পানি পেরোতে হয়, তখন এর চেয়ে কষ্টের আর কী হতে পারে? আমরা আর কোনো বড় দাবি করছি না। শুধু রাস্তাটি পাকা করে দিলেই কয়েক হাজার মানুষের জীবন অনেকটা সহজ হয়ে যাবে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি পাকা করার দাবি জানানো হলেও এখনো স্থায়ী কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তাদের মতে, প্রায় দেড় কিলোমিটার কাঁচা সড়ক পাকা হলে শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নই হবে না, শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষি ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ডেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
তাই দীর্ঘদিনের জনদুর্ভোগ বিবেচনায় নিয়ে
মেছগাঁও গ্রামের শেষ সীমানা থেকে মোড়ারকান্দি গ্রামের আবদুল হেলিম মাস্টারের বাড়ি থেকে আবদুল হান্নানের দোকান হয়ে ঈদগাহ ও কবরস্থান পর্যন্ত প্রায় ১ দশমিক ৫০ কিলোমিটার কাঁচা সড়কটি দ্রুত পাকা করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
এ ব্যাপারে রাউতি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন তারিক জানান, বিগত দুই বছরে আমরা কোনও উন্নয়নমূলক বরাদ্দ পাইনি। তাছাড়া ওই সড়কটি পাকাকরণে বড় অঙ্কের বরাদ্দের প্রয়োজন। আমাদের বর্তমান সংসদ সদস্যের তহবিল থেকে অধিকার ভিত্তিতে বরাদ্দ দিলে সড়কটি পাকাকরণ করলে জনসাধারণের দূর্দশা লাঘব হবে।
জনস্বার্থে সড়কটি পাকাকরণের উদ্যোগ গ্রহণ করার জন্য উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মেহেদী হাসান টিটু'র সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, ওই সড়কটির ব্যাপারে রাউতি ইউনিয়ন চেয়ারম্যান এবং ওয়ার্ড মেম্বার উদ্যোগী হলে সড়কটি এতদিন কাঁচা থাকার কথা নয়।তাছাড়া স্থানীয় নেতাকর্মীরা একটু সরব হলেই এমপির বরাদ্দে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এতদিনে সড়কটি পাকাকরণ হয়ে যেতো।