দুইদিনের উত্তেজনার পর শান্তিপূর্ণ অবস্থান দুদলের; শিক্ষার্থীরা চান স্বাভাবিক শিক্ষা পরিবেশ
সাজ্জাদুর রহমান বেরোবি প্রতিনিধি
দুইদিন ধরে টানটান উত্তেজনার পর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন অনেকটাই শান্ত পরিবেশ বিরাজ করছে।
গত ৩ আগস্ট বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রশিবির আয়োজিত "জুলুমের বিরুদ্ধে জুলাই প্রদর্শনী"তে একটি ব্যানারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ বাধে। এতে পাঁচজন শিক্ষার্থী আহত হন। ওই সময় শাখা ছাত্রদলের ছাত্রশিবিরের বেরোবি শাখা সংঘর্ষে পরবতীতে রংপুর মহানগর শিবিরের নেতাকর্মীদের উপস্থিতি লক্ষ করা যায়। তাদের হাতে লাঠিসোটা ছিল।
এর পরের দিন ৪ আগস্ট রংপুর মহানগর শিবির ও ছাত্রদল উভয়ই আবু সাঈদ চত্বরে বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দেয়। তবে সংঘর্ষ এড়াতে শিবির তাদের বিক্ষোভ মিছিলটি লালবাগ থেকে শুরু হয়ে আবু সাঈদ চত্বর থেকে সরিয়ে শাপলায় নিয়ে যায়। এদিকে রংপুর মহানগর ছাত্রদল ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা আবু সাঈদ চত্বরে বিক্ষোভ মিছিল করে পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নেয়।এসময় অনেকের হাতে দেশীয় অস্ত্র দেখা যায়। তাছাড়াও ক্যাম্পাসের ভেতরেও ঢুকতে দেখা যায়।
তবে "জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে" চিত্র পাল্টে যায়। উপাচার্যের সাথে ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বর্ণাঢ্য র্যালি ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন।
নানান অস্ত্রের ঝনঝনানি শিক্ষার্থীদের আতংকিত করে।এসব চাননা তারা।তারা নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক শিক্ষা পরিবেশ চান।
এ বিষয়ে ইতিহাস ও প্রত্নতত্ন বিভাগের সাধারণ শিক্ষার্থী সানোয়ার হোসেন বলেন,শিক্ষাঙ্গন সংঘর্ষের নয়, সহাবস্থান, যুক্তি ও জ্ঞানের চর্চার স্থান। সাধারণ শিক্ষার্থী হিসেবে চাই—সব ছাত্রসংগঠন সংযম দেখাক, যেন শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম নিশ্চিত হয়।।
পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী নাফিউর হাসান বলেন,বিগত দিনগুলোতে হয়ে যাওয়া ছাত্র রাজনৈতিক দলগুলোর সংঘর্ষ খুবই অনাকাংখিত ও দুঃখজনক৷ আবু সাইদ যেখানে শহিদ হন সেই ভার্সিটিতে আবারো রাজনৈতিক অস্থিতিশীল পরিস্থিতি একদমি কাম্য নয়৷ আশা করি জিনিসগুলো রাজনৈতিক দলের নীতি নির্ধাররকরা ভাববেন এবং আর কোনো মায়ের বুক যেনো খালি না হয় তারা সেটা মাথায় রাখবেন।আমরা চাই দুইদলই যেন সহাবস্থান করে ক্যাম্পাসে শান্তি বজায় রাখবে। তাছাড়াও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক শিক্ষা পরিবেশ রাখবে বলে আশা করি।
ক্যাম্পাসে সুষ্ঠু পরিবেশের বিষয়ে বেরোবি ছাত্রদল সভাপতি রাফায়েল ইমতিয়াজ ইয়ামিন বলেন,আমরা কোন শিবির কিবা শিক্ষার্থীদের ওপর আক্রমণ করিনি। ভবিষ্যতে ওটা হবে না। একই সাথে শিবির উগ্রতা সৃষ্টি করে কিবা নৈরাজ্য সৃষ্টি করে তাদের ছাড় দিিবোনা।আমরা চাই ক্যাম্পাসে সুষ্ঠু পরিবেশ থাকুক।
ছাত্রলীগ বিষয়ে এক থাকলে সংঘর্য হবে না জানিয়ে বেরোবি শিবির সভাপতি রাকিব মুরাদ বলেন,আমরা চাইনা ক্যাম্পাস অস্থিতিশীল হোক। ছাত্রদলে ছাত্রলীগের যারা সংশ্লিষ্ট আছে তাদের বিষয়ে যদি উদ্যোগ না নেয় তাদের দ্বারা ছাত্র দল ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ক্যাম্পাস অস্থিতিশীল হতে পারে।ছাত্রলীগের প্রশ্নে তারা যদি এক থাকতে পারে। তাহলে আগামীতে কোন সংঘর্ষ হবেনা।
দুটি সংগঠন কে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান থাকার কথা জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা ড. ইলিয়াছ প্রামানিক বলেন,বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের মাঝে বিরূপ প্রতিক্রিয়া হওয়াটা স্বাভাবিক।দিনশেষে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় পরাজিত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় দুটি সংগঠন যদি শান্তিপূর্ণভাবে সহ অবস্থান করে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে তাহলে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ভালো থাকবে। শিক্ষার্থীরা যে আশা ও স্বপ্ন নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় আসছে সে স্বপ্ন পূরণে তারা সুন্দর একটি পরিবেশ পাবে।