খুলনায় বক্ষব্যাধি হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ,তদন্ত কমিটি গঠন
মো: আল-মাহফুজ শাওন,খুলনা:
১৫ মাসে মাত্র ৬০ দিন অফিস, অনুমতি ছাড়াই ছুটি ও দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ
খুলনা নগরীর খান জাহানআলী থানাধীন মিরেরডাঙ্গায় অবস্থিত খুলনা বিভাগীয় বক্ষব্যাধি হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মুহাম্মদ ইমরান হোসেনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ উঠেছে। অনুমতি ছাড়াই ছুটি কাটানো, নিয়মিত অফিস না করা, বেতন-ভাতা উত্তোলন এবং বায়োমেট্রিক হাজিরা না দেওয়ার মতো একাধিক অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ৮ জানুয়ারি যোগদানের পর গত ১৫ মাসে তিনি মাত্র ৬০ দিন অফিস করেছেন। শুরুতে সপ্তাহে দুইদিন এবং পরে মাসে সর্বোচ্চ তিনদিন অফিস করতেন তিনি। বিষয়টি একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলে প্রকাশিত প্রতিবেদনের পর কর্তৃপক্ষের নজরে আসে।
এছাড়া গত ১৩ ও ১৪ মার্চ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই প্রধান হিসাবরক্ষকের কাছে ছুটির আবেদন জমা দিয়ে কর্মস্থল ত্যাগ করেন তিনি। পরবর্তীতে ঈদের ছুটির পর মাত্র পাঁচদিন অফিস করে আবারও এক সপ্তাহের ছুটিতে যান। বর্তমানে তিনি ছুটিতে রয়েছেন।
এদিকে, হাসপাতালের সার্বিক নিরাপত্তা ও সম্পদ রক্ষায় অবহেলার অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, হাসপাতালের অভ্যন্তরে একাধিক চুরির ঘটনা ঘটলেও তা প্রতিরোধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। ঈদের ছুটিতে সাব-স্টেশন থেকে গুরুত্বপূর্ণ মালামাল চুরি এবং রমজানের আগে পরিত্যক্ত ভবন ভেঙে রড চুরির ঘটনাতেও তিনি আইনগত পদক্ষেপ নিতে অনীহা দেখান।
এ ঘটনায় স্বাস্থ্য পরিচালকের দপ্তর থেকে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে ডা. মুহাম্মদ ইমরান হোসেন বলেন, ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সমস্যার কারণে তিনি মানসিক চাপে রয়েছেন। তার শতবর্ষী বাবা শেরপুরে একা থাকেন এবং অসুস্থ থাকায় তাকে দেখাশোনার প্রয়োজন হয়। একইসঙ্গে তিনি হাসপাতালটির উন্নয়ন ও সেবার মান বাড়াতে সংশ্লিষ্ট মহলে চিঠি দিয়েছেন বলেও জানান।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে ১০০ শয্যার এ হাসপাতালটি প্রায় অব্যবহৃত অবস্থায় রয়েছে এবং যক্ষ্মা রোগের চিকিৎসা এখন গ্রাম পর্যায়েই সম্পন্ন হওয়ায় রোগীর উপস্থিতি কমে গেছে।