জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে বুটেক্সের হলগুলোতে গণভোজ
মোঃ হাসিবুর রহমান, বুটেক্স প্রতিনিধি:
জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুটেক্স) আবাসিক হলগুলোতে গণভোজের আয়োজন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের তাৎপর্য তুলে ধরা, শহীদদের স্মরণ এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দিতেই এ আয়োজন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
আজ বুধবার (৫ আগস্ট) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের চারটি আবাসিক হলে এ আয়োজন করা হয়। এতে প্রায় দেড় হাজার শিক্ষার্থী অংশ নেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ আজিজ হল, জি. এম. এ. জি. ওসমানী হল, সৈয়দ নজরুল ইসলাম হল এবং মেয়েদের বীর প্রতীক ক্যাপ্টেন সিতারা বেগম হলে একযোগে গণভোজ অনুষ্ঠিত হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে খাদ্য টোকেন সংগ্রহ করা শিক্ষার্থীদের এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। আয়োজনে শিক্ষার্থীদের পোলাও, মুরগির রোস্ট, গরুর কালাভুনা, ডিম, মিষ্টি ও সফট ড্রিংকস পরিবেশন করা হয়।
হলগুলোতে আয়োজনের প্রশংসা করলেও এর পরিধি আরও বাড়ানোর প্রত্যাশা জানিয়েছেন শিক্ষার্থীদের কেউ কেউ। জি. এম. এ. জি. ওসমানী হলের অ্যাপারেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৫০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আতিক হাসান বলেন, “হলগুলোতে জুলাই স্মরণে গণভোজের আয়োজন অবশ্যই প্রশংসনীয় উদ্যোগ। তবে আয়োজনটি আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক হলে ভালো হতো। আন্দোলনে সক্রিয় হলের বাইরের শিক্ষার্থী ও জুলাই যোদ্ধাদের নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোনো আয়োজন করেনি। যেখানে জুলাই আমাদের শিক্ষা দেয় সব বৈষম্যের বিরুদ্ধে সক্রিয় হতে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থীকে নিয়ে আয়োজন করা গেলে জুলাইয়ের ঐক্য ও সম্প্রীতির চেতনা আরও সুন্দরভাবে ফুটে উঠত।”
তবে আয়োজনকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন শিক্ষার্থীদের অনেকে। সৈয়দ নজরুল ইসলাম হলের ইয়ার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৫১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. ইসরাক আহাম্মদ সায়েম বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থান আমার কাছে অন্যায়, বৈষম্য ও স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার সাহসী প্রতিবাদ এবং আত্মত্যাগের প্রতীক। হলে আয়োজিত গণভোজ আসলেই একটি ভালো উদ্যোগ। এ আয়োজন শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব, ঐক্য ও সম্প্রীতি বৃদ্ধি করবে এবং জুলাইয়ের চেতনাকে আরও শক্তিশালী করবে।”
আয়োজনের উদ্দেশ্য ও গুরুত্ব তুলে ধরে শহীদ আজিজ হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. আহসান হাবীব বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থান অন্যায়, দুর্নীতি ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে ছাত্রসমাজের সাহসী অবস্থানের প্রতীক। ইতিহাসের বিভিন্ন সময়ে শিক্ষার্থীরা অন্যায়ের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে, জুলাই আন্দোলনও তারই ধারাবাহিকতা।”
তিনি আরও বলেন, “দিবসটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরা, আন্দোলনের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে সৌহার্দ্য ও ঐক্যের পরিবেশ জোরদার করাই ছিল আমাদের মূল উদ্দেশ্য। এই চেতনা নতুন প্রজন্মের মধ্যে লালন করা প্রয়োজন, যাতে তারা ভবিষ্যতে ন্যায়, সাম্য ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশের জন্য কাজ করতে পারে। গণভোজের এ আয়োজন শিক্ষার্থীদের মধ্যে সম্প্রীতি, ঐক্য ও অংশগ্রহণের মনোভাব আরও জোরদার করবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।”