পুনরায় ঐক্যবদ্ধ হওয়াটাই জুলাই শহীদদের প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা — ইবি উপাচার্য
হাম্মাদ, ইবি প্রতিনিধি:
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনূর রহমান বলেন, “৩৬ জুলাইয়ের এই সফলতার পেছনে ছাত্র-জনতার পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও তাদের ছাত্রসংগঠনগুলোরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। ফ্রন্টলাইনে না থেকেও নেপথ্যে যারা ভূমিকা রেখেছেন, তাদের অবদানও নিঃসন্দেহে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। আমি সবাইকে আহ্বান জানাই, আসুন যে ঐক্য নিয়ে আমরা আন্দোলন করেছিলাম, সেই ঐক্য আবারও ধারণ করি। আর এটাই হবে শহীদদের প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা।”
বুধবার (৫ আগষ্ট) জুলাই ৩৬ গণ অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিষ্ট হাসিনার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া মোটেও সহজ বিষয় ছিল না। যারা আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছেন, নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং জীবনকে তুচ্ছ করে রাজপথে নেমেছেন, তারা নিঃসন্দেহে ক্ষণজন্মা পুরুষ। আমরা অনেক সময় সাফল্যের পর আন্দোলনের ত্যাগকে মূল্যায়ন করতে চাই না। এই অবমূল্যায়নের কারণেই বারবার আমরা ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিতে ব্যর্থ হয়েছি।
গণ-অভ্যুত্থান দিবস উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো আব্দুস শহীদ মিয়ার সভাপতিত্বে এ আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেন, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. ইদ্রিস আলী এবং রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মনজরুল হক। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ প্রায় পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।
এদিন সকাল ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও শান্তির প্রতিক বেলুন উড়িয়ে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। পরবর্তীতে একটি র্যালি বের করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। র্যালিটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় মিলিত হয়। আলোচনা সভা শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের জিমনেসিয়ামে শিক্ষক, কর্মচারী, কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রীতি ভলিবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়।
এদিকে আলোচনা সভায় উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেন বলেন, ৪ঠা জুলাই এ ক্যাম্পাসে আমি উপস্থিত ছিলাম। সেদিন কী ঘটেছিল, তা স্বচক্ষে দেখেছি। সেদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে একটি ডিন অফিসে আশ্রয় নিয়েছিলাম। সেদিন কারা আন্দোলন প্রতিহত করার জন্য চেষ্টা করছিল তা নিজ চোখে দেখেছি। তাদের মধ্যে একজন ছিল আমাদেরই কর্মচারী আসলাম। আজ সেই আসলামকে পুনর্বাসন করা হয়েছে। এরকম অনেককেই পুনর্বাসন করা হচ্ছে। আপনারা জুলাই বৈষম্যের কথা বলছেন। কিন্তু এসব পুনর্বাসন নিয়ে কথা বলছেন না কেন? আমার প্রশ্ন—কারা এদেরকে পুনর্বাসন করছে? আমরা একই জায়গায় থাকতে চাই না, তাদেরকে পুনর্বাসনও করতে চাই না। আমরা তাদেরকে বিচারের আওতায় নিয়ে আসব।