কটিয়াদিতে গরীবের চাল নিয়ে চালবাজি -অভিযুক্ত আটক
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি:
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদি উপজেলার করগাঁও ইউনিয়নে গত ঈদের পূর্বে অসহায় দুস্থদের মাঝে বিতরণের জন্য বরাদ্দকৃত ৪৯ বস্তা সরকারি ভিজিএফএর চাল জব্দ করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার দিবাগত গভীর রাতে কটিয়াদি উপজেলার করগাঁও ইউনিয়নের কলিমবাড়ি মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত ফারুক নামে সরকারি চাল মজুদকারী ব্যাবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
তিনি একই এলাকার মৃত ইব্রাহিম মিয়ার ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,দীর্ঘদিন যাবত অভিযুক্ত ফারুক জৈনক শফিকুল ইসলামের দোকানঘর ভাড়া নিয়ে সরকারি রিলিফের চাল কিনে মজুদ করে আসছিলেন।বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে খবর পেয়ে ভাট্টা তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সম্পূর্ণ ইন্টেক ২৪ বস্তা, খোলা ১৯ বস্তা ও খালি ৫১ বস্তা পায়।যা ইতিমধ্যে খোলাবাজারে বিক্রি করা হয় এবং বর্তমানে মজুদকৃত চাল গুলিও বিক্রির প্রস্তুতি চলছিলো বলে জানা গেছে।
পরে পুলিশ এসে চালের বস্তা মজুদকৃত গোডাউন সিলগালা করে।এ সময় অভিযুক্ত ফারুক দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে পুলিশ ধাওয়া দিয়ে তাকে গ্রেফতার করে ভাট্টা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে নিয়ে যায়।
এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ভাট্টা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপ-পরিদর্শক ফরিদুজ্জামান জানান,আমরা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর পেয়ে এখানে অভিযান পরিচালনা করে সরকারিভাবে অসহায় দুস্থদের মাঝে বিতরণের জন্য বরাদ্দকৃত রিলিফের ৩৫ কেজি করে ইন্টেক ২৪ বস্তা চাল, খোলা ১৯ বস্তা চাল ও খালি ৫১ টি বস্তা সহ মোট ১ হাজার কেজি চাল পাই।পরে গোডাউন টি সিলগালা করে দেই।এ সময় অভিযুক্ত ফারুক দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে আমরা ধাওয়া দিয়ে তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হই।এ ঘটনায় উর্ধতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনানুগ ব্যাবস্থা নেয়া হচ্ছে।
প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় বাসিন্দা জাকারিয়া আহমেদ জানান,সরকারি রিলিফের চাউলের এত গুলি ইন্টেক বস্তা কিভাবে এখানে এলো আমাদের বোধগম্য নয়।আমরা এলাকাবাসী তদন্ত সাপেক্ষে এই ঘটনার সাথে যারা জড়িত তাদেরকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার দাবী জানাই।এর আগেও গত বছরের রমজান মাসে অসহায় দুস্থদের মাঝে বিতরণের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি চাল বর্তমান চেয়ারম্যান নাদিম মোল্লা সুবিধাভোগীদের মাঝে পরিমাণে কম দেয়ার অভিযোগ রয়েছে বলেও জানান তিনি।
কটিয়াদি উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি, করগাঁও ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি ও করগাঁও ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান শরাফ উদ্দিন লস্কর পারভেজ জানান,ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে সরকারিভাবে বরাদ্দকৃত জনপ্রতি ১০ কেজি করে ভিজিএফএর চাল বিতরণের নিয়ম রয়েছে।কিন্তু বস্তাভর্তি এত চাল এখানে কিভাবে আসলো তা তদন্ত করে সঠিক রহস্য উদঘাটন করা হউক এবং এই ঘটনার সাথে জড়িত প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনার দাবী জানাই প্রশাসনের কাছে।
কটিয়াদি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রফিকুল ইসলাম জানান,কটিয়াদি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএন ও স্যার আমাকে বিষয়টি অবগত করলে আমি দ্রুত সেখানে পুলিশ পাঠাই।
পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সকল তথ্য ইউএন ও স্যারকে অবগত করেন।ইউএনও স্যার এ বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন কবেন।তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত ব্যাবস্থা নেয়া হবে।