শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সারাদেশ

শিক্ষার্থীদের মানববন্ধনে অংশ নেওয়ায় সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও মোবাইল ভাঙচুর

অনলাইন ডেস্ক ১২ July ২০২৬ · Sunday · ০৮:৫২ অপরাহ্ণ
শিক্ষার্থীদের মানববন্ধনে অংশ নেওয়ায় সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও মোবাইল ভাঙচুর

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি:

কিশোরগঞ্জের নোহার নান্দালা ফাযিল মাদরাসার অধ্যক্ষ আব্দুস সালাম আকন্দের বিরুদ্ধে আনা মিথ্যা, বানোয়াট ও ষড়যন্ত্রমূলক অভিযোগের প্রতিবাদ এবং ষড়যন্ত্রকারীদের বিচারের দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনে মাদরাসার বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় এলাকাবাসী অংশ নেন। মানববন্ধনের সংবাদ সংগ্রহকালে অভিযুক্তরা সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হয়ে মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। এ সময় মোবাইলে ধারণ করা ভিডিও ফুটেজ মুছে ফেলার পাশাপাশি মোবাইল ফোন ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।

রোববার (১২ জুলাই) দুপুরে সদর উপজেলার চৌদ্দশত এলাকায় কিশোরগঞ্জ-ভৈরব আঞ্চলিক মহাসড়কে মাদরাসার সামনে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাদরাসার অধ্যক্ষের পক্ষের লোকজনের মানববন্ধন শেষ হওয়ার পর পরই সেখানে পাল্টা মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচির আয়োজন করে অন্য পক্ষটি। এই পক্ষের নেতৃত্ব দিচ্ছেন মাদরাসার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগকারী ও কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল আলী। কর্মসূচি চলাকালে আব্দুল আলীর লোকজন উপস্থিত সাংবাদিকদের তাদের বক্তব্য রেকর্ড করার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। কিন্তু সাংবাদিকরা তাৎক্ষণিকভাবে ভিডিও ধারণ করতে রাজি না হওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন তারা।

একপর্যায়ে কেন আগের মানববন্ধনের সংবাদ সংগ্রহ করা হলো এমন কৈফিয়ত চেয়ে সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হন আব্দুল আলীর অনুসারীরা। তারা কর্তব্যরত সাংবাদিক রায়হান জামানের হাত থেকে মোবাইল ফোন কেড়ে নেন এবং শিক্ষার্থীদের মানববন্ধনের ধারণকৃত সব ভিডিও ডিলিট করে দেন। পরে মোবাইল ফোনটি রাস্তায় আছড়ে ভেঙে ফেলা হয়। এ সময় স্থানীয়দের হস্তক্ষেপে সাংবাদিকরা বড় ধরনের শারীরিক আক্রমণ থেকে রক্ষা পান।

স্থানীয় বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম জানান, শিক্ষার্থীদের মানববন্ধনে সাংবাদিকরা কেন এলেন এবং কার কথায় এলেন এই প্রশ্ন তুলে আব্দুল আলীর লোক মো. তোফাজ্জল, আইনাল, ফাহিম ও বাশারসহ অজ্ঞাত আরও কয়েকজন সাংবাদিক রায়হান জামানের ওপর চড়াও হন। তারা জোরপূর্বক মোবাইল কেড়ে নিয়ে ভিডিও ডিলিট করেন এবং ফোনটি ভেঙে ফেলেন।

তিনি আরও জানান, এ সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ভোরের কাগজের জেলা প্রতিনিধি হারিছ আহমেদ, ইত্তেফাকের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার মো. শরীফুল ইসলাম, বাংলা ভিশনের ভিডিও জার্নালিস্ট মো. মনির হোসাইন এবং চ্যানেল এস-এর জেলা প্রতিনিধি আশরাফুল ইসলাম রাজন এগিয়ে এসে বিষয়টি জানতে চাইলে হামলাকারীরা তাদের ওপরও চড়াও হন ও হেনস্তা করেন।

এ বিষয়ে বিএনপি নেতা আব্দুল আলীর কাছে জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হোননি। সময় হলে তিনি নিজেই বিস্তারিত বলবেন না বলে চলে যান।

ঘটনার তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে সিনিয়র সাংবাদিক আল আমিন হোসেন বলেন, একই স্থানে একই দিনে দুটি পক্ষের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি থাকার পরেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের কোনো ভূমিকা বা প্রস্তুতি ছিল না, যা অত্যন্ত হতাশাজনক। আজ যদি বৃষ্টি না থাকত এবং শিক্ষার্থীরা আর কিছুক্ষণ সেখানে অবস্থান করত, তবে তাদের ওপরও বড় ধরনের হামলা হতো। যেখানে সংবাদকর্মীরাই রেহাই পাননি, সেখানে সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা কোথায়?

এদিকে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর এমন ন্যক্কারজনক হামলা ও মোবাইল ভাঙচুরের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কিশোরগঞ্জের সাংবাদিক নেতারা। তারা অবিলম্বে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম ভূঞা বলেন, দুই পক্ষই আজ মানববন্ধন করবে না বলে আমাকে জানিয়েছিল। তবে পরে একটি পক্ষ মানববন্ধন করেছে। সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও মোবাইল ফোন ভাঙচুরের ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য

এখনও কোনো মন্তব্য নেই।

আরও পড়ুন

নিকলীতে বিএনপি'র ৪৮ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের বর্ণাঢ্য র‍্যালী

নিকলীতে বিএনপি'র ৪৮ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের বর্ণাঢ্য র‍্যালী

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি:বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি'র ৪৮ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কিশো...

০১ September ২০২৬ · Tuesday · ১১:০৮ অপরাহ্ণ