দেশেই নতুন পাটের বীজ উদ্ভাবনে গবেষণা চলছে : প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি:
পাটের সোনালি অতীত ফিরিয়ে আনতে এবং বিদেশি বীজের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে দেশেই নতুন পাটের বীজ উদ্ভাবনে গবেষণা চলছে বলে জানিয়েছেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম। একই সঙ্গে পাটভিত্তিক শিল্পে কাঁচামালের সরবরাহ নিশ্চিত করতে কাঁচা পাট রপ্তানিকে অফিসিয়ালি নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
রোববার (১২ জুলাই) দুপুরে কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত জেলা আইনশৃঙ্খলা সভায় অংশ নেওয়ার পর অসহায় ও দুস্থ নারীদের মাঝে আর্থিক সহায়তার চেক ও সেলাই মেশিন বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন প্রতিমন্ত্রী। অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিদেশ থেকে পাটের বীজ আমদানির প্রয়োজনীয়তা কমিয়ে দেশীয়ভাবে উন্নতমানের বীজ উৎপাদনের লক্ষ্যে গবেষণা কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে পাট খাতে স্বনির্ভরতা অর্জন সম্ভব হবে।
তিনি আরও বলেন, দেশের পাটভিত্তিক শিল্পে কাঁচামালের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে কাঁচা পাট রপ্তানিকে অফিসিয়ালি নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। পাশাপাশি গত বছরের মতো এবারও কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পাটের ন্যায্যমূল্য পাবেন বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে সমাজের পিছিয়ে পড়া ১৮ জন অসহায় ও দুস্থ নারীর হাতে মোট ১০ লাখ ১৫ হাজার টাকার আর্থিক সহায়তার চেক তুলে দেওয়া হয়। এ ছাড়া আত্মকর্মসংস্থান ও স্বাবলম্বী হওয়ার লক্ষ্যে আরও পাঁচজন নারীর মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয়।
এ সময় কিশোরগঞ্জ-১ (সদর-হোসেনপুর) আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনের সংসদ সদস্য জালাল উদ্দিন, জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান,স্থানীয় সরকার বিভাগের (ডিডিএলজি) উপপরিচালক জেবুন নাহার শাম্মী, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ এরশাদুল আহমেদ, জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধানগণ, উপজেলা নির্বাহী অফিসারবৃন্দ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধিবৃন্দসহ জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যালোচনা করা হয়। জননিরাপত্তা জোরদার এবং নাগরিক জীবনে স্বস্তি নিশ্চিত করতে হাওরাঞ্চলে নৌ-ডাকাতি প্রতিরোধ, শহরাঞ্চলে চুরি-ছিনতাই নিয়ন্ত্রণ, যানজট নিরসন, জলাবদ্ধতা সমস্যা সমাধান, ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের দ্রুত সংস্কারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। এ সময় সংশ্লিষ্ট দপ্তরসমূহকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা হয় এবং কার্যকর সমন্বয়ের মাধ্যমে দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সভায় বক্তারা বলেন, জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং জনগণকে অধিকতর মানসম্মত ও সময়োপযোগী সেবা প্রদান নিশ্চিত করতে সকল সরকারি দপ্তর, জনপ্রতিনিধি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত প্রচেষ্টা অপরিহার্য। জেলা প্রশাসন কিশোরগঞ্জ এ লক্ষ্য অর্জনে সকল অংশীজনের সহযোগিতায় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
সভা শেষে সমাজের সুবিধাবঞ্চিত ও দুস্থ নারীদের আত্মকর্মসংস্থান ও আর্থিক স্বাবলম্বিতা অর্জনের লক্ষ্যে তাঁদের মাঝে সেলাই মেশিন ও নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়।