কটিয়াদীতে বিধবাকে উত্যক্তের ঘটনা: পুলিশের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অসত্য ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত
মোফাসসেল সরকার,কটিয়াদী(কিশোরগঞ্জ)প্রতিনিধি :-
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ চরপুক্ষিয়া গ্রামে এক বিধবা নারীকে উত্যক্ত ও হুমকির ঘটনায় থানা পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রকাশিত সংবাদটিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন কটিয়াদী মডেল থানা পুলিশ।
পুলিশের দাবি, ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং আসামির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান থাকা অবস্থায় একটি মহল পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে এই ধরনের মনগড়া তথ্য ছড়াচ্ছে।
কটিয়াদী মডেল থানা সূত্র জানায়, গত ২৯ এপ্রিল দক্ষিণ চরপুক্ষিয়া গ্রামের মৃত রিপন মিয়ার স্ত্রী নার্গিস আক্তার বাদী হয়ে প্রতিবেশী শাহজাহানের বিরুদ্ধে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ পাওয়ার পরপরই পুলিশ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে আমলে নেয় এবং তদন্তকারী কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা যাচাইয়ের কাজ শুরু করেন।
পুলিশের বিরুদ্ধে বাদীকে আপোষ-মীমাংসার জন্য চাপ দেওয়ার যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. আক্তার হোসেন জানান, "বাদীপক্ষকে কোনো প্রকার চাপ সৃষ্টি করা হয়নি। বরং এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং আসামি যাতে ভবিষ্যতে বাদী বা তাঁর পরিবারের কোনো ক্ষতি করতে না পারে, সেজন্য পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। তদন্তের স্বার্থে স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হচ্ছে।"
এদিকে, এলাকায় মাদকের বিরুদ্ধে কটিয়াদী মডেল থানার ঘোষিত ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা পুনর্ব্যক্ত করে ওসি মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, "কোনো অপরাধী বা মাদক কারবারিকে ছাড় দেওয়ার প্রশ্নই আসে না। পুলিশের বিরুদ্ধে আসামির কাছ থেকে সুবিধা নেওয়ার যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তার কোনো ভিত্তি নেই।" কুলিয়ারচর উপজেলার কাইসার হামিদ নামে এক সংবাদকর্মী আমার বক্তব্য না নিয়ে "আজকের গ্রাম বাংলা" নামক একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এ ঘটনাকে নিয়ে মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন কিছু তথ্য প্রচার করেছে।যা প্রকৃত সংবাদকর্মীর কাজ নয়।
ওসি আরও জানান, অভিযোগের প্রাথমিক তদন্ত চলছে এবং খুব দ্রুতই তদন্ত সাপেক্ষে দোষী ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অসহায় নারী ও তাঁর পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ প্রশাসন সর্বদা বদ্ধপরিকর।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, একটি তদন্তাধীন বিষয়কে কেন্দ্র করে পুলিশের আন্তরিকতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা এবং বিভ্রান্তি ছড়ানো আইনি প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। পুলিশ প্রশাসন সকলকে এই ধরনের অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়ার এবং সঠিক তদন্তে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছে।