শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
সারাদেশ

পুনরায় অতিথি পাখির দেখা মিলেছে ইবিতে, নিরাপদ আবাস নিশ্চিতের দাবি অভয়ারণ্য'র

অনলাইন ডেস্ক ০৬ June ২০২৬ · Saturday · ০১:৩৩ পূর্বাহ্ণ
পুনরায় অতিথি পাখির দেখা মিলেছে ইবিতে, নিরাপদ আবাস নিশ্চিতের দাবি অভয়ারণ্য'র

মো. হাম্মাদ তালুকদার  

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি:
জৈষ্ঠ্যমাস শেষে আষাঢ় এর আগমন ঘটতে সপ্তাহখানেক বাকি। সূর্যের প্রচণ্ড উত্তাপে রোদের প্রখরতা বেড়েই চলেছে। বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় ভ্যাপসা গরম ও হাঁসফাঁস অবস্থা তৈরি হয়েছে পরিবেশে। শুনশান নিরবতায় ঢেকে আছে বন্ধ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) ক্যাম্পাস। আর এ নিরবতার সুযোগেই বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন অতিথি পাখিদের উকি মারতে দেখা গেছে এ ক্যাম্পাসে। সরেজমিনে ক্যাম্পাসের শাহ আজিজুর রহমান হল সংলগ্ন পুকুরে বালিহাঁস এবং মীর মুগ্ধ সরোবরে কয়েক ধরনের পাখির দেখা মিলেছে। এদিকে অতিথি পাখিদের জন্য নিরাপদ আবাসন নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবাদী ও সামাজিক সংগঠন অভয়ারণ্য।

জানা যায়, প্রকৃতিকে আকড়ে ধরে বেড়ে ওঠা একটি ক্যাম্পাসের নাম ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়। প্রকৃতিকে কেন্দ্র করে এ ক্যাম্পাসের নানান ঐতিহ্যের কথা এখনো লোকমুখে শোনা যায়। বিশেষ করে একসময় এ ক্যাম্পাসে নিয়মিত অতিথি পাখির আগমণ ঘটতো এ সরোবরে। কিন্তু পরিবেশ বিপর্যয়ের কারণে সেটি গত কয়েকবছরে বিলুপ্তপ্রায় হয়েছে। তবে গত ২১ মে থেকে ২৫ দিনের লম্বা ছুটিতে গিয়েছে এ বিশ্ববিদ্যালয়। আর ছুটির মাঝেই পরিবেশ যখন একদমই নিরব এবং কোলাহলমুক্ত, ঠিক তখন ক্যাম্পাসে আগমন ঘটেছে বিভিন্ন অতিথি পাখির। তবে 'বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশগত কারণে এ পাখি পুনরায় ইবি ত্যাগ করতে পারে' এমন শংকা প্রকাশ করে নিরাপদ পরিবেশ এবং আবাসন নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন পরিবেশবাদী ও সামাজিক সংগঠন অভয়ারণ্য।

সংগঠনটির অপারেশনস ডিরেক্টর সজল রায় বলেন, ঈদের দীর্ঘ ছুটির শান্ত ও নিরিবিলি পরিবেশে আমাদের হলের পুকুরে এসে নিরাপদ আশ্রয় গড়ে তুলেছে একদল বালিহাস। ছুটির পর ক্যাম্পাসে ফিরে তাদের অবাধ বিচরণ দেখতে পেয়ে মনে হয়েছে—প্রকৃতি সুযোগ পেলে নিজেই তার সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনে। এই দৃশ্য আমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেয়। মানুষ ও বন্যপ্রাণী পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী নয়; বরং একই পরিবেশের সহাবস্থানকারী। নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারলে পাখি, প্রাণী ও প্রকৃতি নিজেরাই আমাদের চারপাশকে জীবন্ত ও সমৃদ্ধ করে তোলে।

তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস শুধু শিক্ষা ও গবেষণার কেন্দ্র নয়, এটি অসংখ্য পাখি ও প্রাণীরও আবাসস্থল। তাই তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের নৈতিক ও সামাজিক দায়িত্ব। পাখি শিকার, বাসা নষ্ট করা, কিংবা বন্যপ্রাণীকে বিরক্ত করার মতো কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকা এবং অন্যদেরও সচেতন করা আমাদের সকলের কর্তব্য। ক্যাম্পাসে কোনো বন্যপ্রাণী শিকার, নির্যাতন বা তাদের আবাসস্থল ধ্বংসের ঘটনা কারো নজরে এলে অনুগ্রহ করে দ্রুত অভয়ারণ্যকে অবহিত করুন। ক্যাম্পাস হোক বণ্যপ্রাণীরও নিরাপদ আবাস।

 

মন্তব্য

এখনও কোনো মন্তব্য নেই।

আরও পড়ুন

মুমুরদিয়া ইউনিয়নের ৪,৫ ও ৬ নং ওয়ার্ডের মানুষের সেবক হিসেবে কাজ করবো-ইসরাত জাহান দিপা

মুমুরদিয়া ইউনিয়নের ৪,৫ ও ৬ নং ওয়ার্ডের মানুষের সেবক হিসেবে কাজ করবো-ইসরাত জাহান দিপা

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি:আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদি উপজেলার...

১৩ June ২০২৬ · Saturday · ১২:১২ পূর্বাহ্ণ