অষ্টগ্রামে বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে ৫ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি সহ একটি পরিবারকে ভিটে মাটি ছাড়ার অভিযোগ; অভিযুক্ত বিএনপি নেতার পাল্টা সংবাদ সম্মেলন
বিজয় কর রতন, কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি: কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলার সদর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সজু মিয়ার বিরুদ্ধে একই গ্ৰামের কাজীপাড়ার পুতুল বেগমের পরিবার কে রাস্তায় বসিয়ে দেওয়া সহ ৫ লাখ টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে। এই ব্যাপারে পুতুল বেগমের ছেলে জনি মিয়া বাদী হয়ে অষ্টগ্রাম থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। গত পহেলা জুন সোমবার অভিযোগ দায়ের করা হলেও দুইদিনে পুলিশ কোনো কার্যকরী ব্যবস্থা নিচ্ছে বলে বাদী জনি মিয়া অভিযোগ করেন। এ ব্যাপারে আবারও আজ বুধবার ৩ রা জুন জনি মিয়া বাদী হয়ে অপর এক অভিযোগ দায়ের করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর। এ অভিযোগের পর তাৎক্ষণিক আজ বুধবার দুপুরে অভিযুক্ত সজু মিয়া অষ্টগ্রাম সদর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অষ্টগ্রাম উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলন করেছেন। সংবাদ সম্মেলনের পর
বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সজু মিয়ার পক্ষে একটি মিথ্যা অভিযোগের প্রতিবাদ মিছিল বাহির করেন স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ ।সংবাদ সম্মেলনে তিনি উল্লেখ করেন, পুতুল বেগমের ছেলে জনি মিয়া যে অভিযোগ করেছেন তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। এ ধরনের কোন ঘটনা ঘটে নাই । তারা ইচ্ছাকৃত ভাবে বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র খোলা আকাশের নিচে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে রয়েছে। সমাজে আমাকে হেয় প্রতিপন্ন ও বদনাম করার জন্য এ মিথ্যা নাটক সাজিয়েছে । আমি সম্পূর্ণ নির্দোষ। জানা যায়,২০১৫ ইংরেজি সনে অষ্টগ্রাম সদর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সজু মিয়ার নিকট থেকে দুই তলা ভবন সহ ৩ শতাংশ ভূমি ১৬ লক্ষ টাকায় ক্রয় করেন। জনির মা কাজি পাড়ার পুতুল বেগম। তিনি জানান, এ বাড়ির বর্তমান বাজার মুল্য ৩৫ লক্ষ টাকা। বাড়িটি ক্রয়ের পর থেকেই এই জরাজীর্ণ ভবনে পুতুল বেগম ও তার পরিবার বসবাস করে আসছেন। ইদানিং ভবনটি ক্রমশ ঝুঁকিপূর্ন হয়ে উঠেছে । ইদানিং ভবনটি ভেঙে নতুন ভবন নির্মাণের চেষ্টা করলে বিএনপির সভাপতি সজু মিয়া ও তার ভাই ভবনটি ভেঙে নতুন ভবন তৈরি করে বাঁধা দেন । তারা বলে যে , আমরা ওই সময় নামে মাত্র টাকা দিয়ে বিক্রি করেছি । এই বাড়ি আমরা দিবো না, তরা বাড়ি আমাদের কে ফেরত দে নইলে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দিতে হবে। চাঁদা দিলে ভবন নির্মাণ হবে। পুতুল বেগমের ছেলে জনি আরো বলেন, ভবনটির যে অবস্থা যে কোন মুহুর্তে ভেঙে পড়তে পারে । বর্তমানে আমাদের থাকার কোন জায়গা নেই। অষ্টগ্রাম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের খেলার মাঠের উত্তর পাশে খোলা আকাশের নিচে জীবন যাপন করছি । প্রশাসন এ ব্যাপারে কোন পদক্ষেপ নিচ্ছে না। তিনি আরো বলেন সাধু সাজার জন্য সাংবাদিক সম্মেলন করেছেন সজু মিয়া। এ ব্যাপারে অষ্টগ্রাম থানার ওসি রোকনুজ্জামানের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ছুটিতে রয়েছেন বলে অপর প্রান্ত থেকে একজন কর্মকর্তা জানান। থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এসআই রিপন বাবু জানান, স্যার আসলে বিষয়টি নিয়ে আমরা বসবো । এ বিষয়ে জনি মামলা দায়ের করেছেন। এই কথা বলে মোবাইলটি কেটে দেন ।