কটিয়াদীতে চুরির অভিযোগে আটক অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি, গণপিটুনি থেকে উদ্ধার করল পুলিশ
মিজানুর রহমান
কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি :
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার আচমিতা ইউনিয়নের অগ্রেরকোনা গ্রামে চুরির অভিযোগে এক অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আটক করে স্থানীয় জনতা। পরে তিনি গণপিটুনির শিকার হন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে অজ্ঞান অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।
সোমবার (১ জুন) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অগ্রেরকোনা গ্রামের বাসিন্দা মো. জাফরুল্লাহ বসতঘরে এক ব্যক্তি চুরির উদ্দেশ্যে প্রবেশ করেন। ঘরের আলমারি তল্লাশির সময় পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি টের পেয়ে চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে তাকে আটক করে।
একপর্যায়ে উত্তেজিত জনতা তাকে মারধর করলে তিনি গুরুতর আহত হয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়েন। খবর পেয়ে কটিয়াদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলামের নির্দেশে এসআই মোস্তফার নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেখে অজ্ঞাতনামা ওই ব্যক্তি অজ্ঞান অবস্থায় মাটিতে পড়ে আছেন। পরে তাকে উদ্ধার করে দ্রুত কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
পুলিশ জানায়, আটক ব্যক্তির দেহ তল্লাশি করে কোনো চোরাই মালামাল পাওয়া যায়নি। তবে ভুক্তভোগীর ঘরের আলমারি খোলা ও তছনছ অবস্থায় পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি কোনো মালামাল নিয়ে পালানোর আগেই জনতার হাতে ধরা পড়েন।
আহত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এ বিষয়ে কটিয়াদী মডেল থানার ওসি মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, “খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অজ্ঞান অবস্থায় থাকা ব্যক্তিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছে। তার পরিচয় শনাক্ত এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে। আইন নিজের হাতে তুলে না নিয়ে যেকোনো অপরাধীকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করার জন্য সকলের প্রতি অনুরোধ জানানো হচ্ছে।”
এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।