কুষ্টিয়ায় স্থানীয় বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে, কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা সংবাদ সম্মেলন
নজরুল ইসলাম মুকুল, কুষ্টিয়া:
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং কুষ্টিয়া-২ (মিরপুর-ভেড়ামারা) আসনের তিনবারের সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে মিথ্যা, কাল্পনিক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগ উত্থাপনের প্রতিবাদে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার বিকেল পাঁচটার দিকে অধ্যাপক শহিদুল ইসলামের নিজস্ব বাসভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের নোংরা ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
'ভোট বিক্রির অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও কাল্পনিক'
সংবাদ সম্মেলনে অধ্যাপক শহিদুল ইসলাম অত্যন্ত ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "আমার বিরুদ্ধে যে অসত্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্যগুলো ছড়িয়ে সমাজে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে, আমি তার তীব্র নিন্দা ও জোরালো প্রতিবাদ জানাচ্ছি। যারা এসব প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছেন, তারা যদি কোনো রকমের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হন, তবে আমি তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করব।" তিনি আরও বলেন, "আমার নামে রটানো হচ্ছে যে, আমি নাকি টাকার বিনিময়ে ভোট বিক্রি করেছি। এগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে সততার সাথে রাজনীতি করেছি, জনগণের ভালোবাসায় তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছি। আমার মতো একজন সিনিয়র নেতার নামে এই ধরনের কুৎসা রটানো অত্যন্ত দুঃখজনক।"
পেছনের কুশীলবদের মুখোশ উন্মোচন করে এই বর্ষীয়ান বিএনপি নেতা বলেন, "আমার নামে যে ব্যক্তি এই সমস্ত ভিত্তিহীন তথ্যগুলো ছড়াচ্ছে, তিনি নিজেই বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের সাথে সরাসরি জড়িত ছিলেন। এমনকি তিনি আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য কামারুল আরেফিনের ব্যবসায়িক পার্টনার ছিলেন। বিগত ফ্যাসিবাদের অন্ধকার দিনগুলোতে যেখানে সাধারণ নেতা-কর্মীরা মামলা-হামলায় জর্জরিত ছিল, সেখানে তার নামে একটা সিঙ্গেল মামলাও হয়নি। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, " এখন একটি পদ বাগিয়ে নিয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের নামে মিথ্যা ও কাল্পনিক তথ্য ছড়াচ্ছেন। এর মূল উদ্দেশ্য হলো সমাজে বিভ্রান্তি ছড়ানো এবং দলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা নষ্ট করে ভাঙন সৃষ্টি করা।" তিনি বলেন, তার ছেলে তসলিম উদ্দিন নিশাত কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব হওয়ার পর থেকে মিল ফ্যাক্টরি, ইন্ডাস্ট্রি এবং ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা গ্রহণ করে থাকেন।
প্রসঙ্গত, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৩০ তম শাহাদত বার্ষিকীর এক অনুষ্ঠানে কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার টিপু সুলতান, অধ্যাপক শহিদুল ইসলামকে জড়িয়ে নানা রকম অশালীন ও বিশৃঙ্খলামূলক বক্তব্য প্রদান করেন।
উক্ত অনুষ্ঠানে টিপু সুলতান অভিযোগ করেন যে, অধ্যাপক শহিদুল ইসলাম টাকার বিনিময়ে জামায়াতের কাছে ভোট বিক্রি করেছেন। একই সাথে তিনি দাবি করেন, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জামায়াতের সাথে আঁতাত করে অধ্যাপক শহিদুলের ছোট ভাই তৌহিদুল ইসলাম আলমকে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে নিশ্চিত করতে গোপনে লবিং করেছে।
অধ্যাপক শহিদুল ইসলামের মতো একজন প্রবীণ ও জনপ্রিয় নেতার বিরুদ্ধে মিরপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের এমন কুরুচিপূর্ণ বক্তব্যে ভেড়ামারা ও মিরপুর উপজেলা বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত স্থানীয় নেতৃবৃন্দ জানান, দলের ক্রান্তিকালে যারা ঘরে বসে স্বৈরাচারের সাথে ব্যবসা করেছে, তারা আজ মাঠে এসে দলের ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাদের চরিত্রহনন করছে। কেন্দ্রীয় হাইকমান্ডের উচিত অবিলম্বে এই ধরণের সুবিধাবাদী ও ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া।
সংবাদ সম্মেলনে মিরপুর ও ভেড়ামারা উপজেলার বিভিন্ন স্তরের বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মী এবং স্থানীয় সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।