গাজীপুরের সংরক্ষিত বনভূমি এখন যেন দখলবাজদের দখলে
গাজীপুর প্রতিনিধি: গাজীপুরের সংরক্ষিত বনভূমি এখন যেন দখলবাজদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় ফুং সিরামিক লিমিটেড অবৈধভাবে প্রায় সাড়ে ৩০০ শতাংশ বনভূমি দখল করে রাস্তা নির্মাণ ও কারখানা সম্প্রসারণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। অথচ রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষায় দায়িত্বপ্রাপ্ত বন বিভাগ রহস্যজনক নীরবতা পালন করছে।সরেজমিনে দেখা যায়, বনভূমির ভেতর ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে রাস্তা নির্মাণ, মাটি ভরাট এবং স্থাপনা তৈরির কাজ চলছে প্রকাশ্যে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ ভূমিখেকো সিন্ডিকেট বনভূমি দখলের মহোৎসবে নেমেছে। আর এই সিন্ডিকেটকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহযোগিতা করছে বন বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী।অভিযোগের তীর উঠেছে সংশ্লিষ্ট বিট অফিসার মান্নানের দিকেও। এ বিষয়ে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে কার্যকর কোনো তথ্য দিতে পারেননি তিনি। বরং তাঁর অস্পষ্ট ও দায়সারা বক্তব্য স্থানীয়দের মাঝে নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। এলাকাবাসীর ভাষ্য, বনভূমি ধ্বংসের মতো ভয়াবহ কর্মকাণ্ড সম্পর্কে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কিছুই জানেন না—এমন দাবি বিশ্বাসযোগ্য নয়। ফলে স্থানীয়দের ধারণা, তিনি অনৈতিক সুবিধা নিয়ে এই দখলবাজ চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রভাবশালী কিছু ব্যক্তি এই অবৈধ দখল বাণিজ্যের মূল নিয়ন্ত্রক হিসেবে কাজ করছেন। তাদের মধ্যে সেলিম ভুইয়ার নামও সামনে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রভাব খাটিয়ে বনভূমি দখলকে বৈধতার আবরণ দেওয়ার চেষ্টা চলছে। কোটি কোটি টাকার এই বাণিজ্যে জড়িয়ে রাতারাতি আঙুল ফুলে কলাগাছ বনে গেছেন অনেকেই।পরিবেশবিদরা বলছেন, এভাবে সংরক্ষিত বনভূমি উজাড় হতে থাকলে ভয়াবহ পরিবেশ বিপর্যয় দেখা দেবে। ধ্বংস হবে জীববৈচিত্র্য, বাড়বে তাপমাত্রা, কমে যাবে প্রাকৃতিক ভারসাম্য। কিন্তু এসব নিয়ে যেন কোনো মাথাব্যথা নেই সংশ্লিষ্টদের।প্রশ্ন উঠেছে—কার স্বার্থে ধ্বংস করা হচ্ছে রাষ্ট্রের বনভূমি? কেন নিশ্চুপ বন বিভাগ? আর কত টাকার বিনিময়ে পরিবেশ হত্যার লাইসেন্স দেওয়া হচ্ছে দখলদারদের? এখনই কঠোর ব্যবস্থা না নিলে অচিরেই বনভূমি পরিণত হবে দখল আর দুর্নীতির কংক্রিট সাম্রাজ্যে।