বকশীগঞ্জের মেরুর চরে মাদক ও জুয়ার বিস্তার: ছাত্তার মন্ডলের বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর অভিযোগ
সামরুল হক, স্টাফ রিপোর্টার জামালপুর:
জামালপুর জেলার বকশীগঞ্জ উপজেলার মেরুর চর ইউনিয়নের মেরুর চর গ্রামে মাদক ও জুয়ার বিস্তার নিয়ে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, গ্রামের কুখ্যাত জুয়া ও মাদক ব্যবসায়ী তালেবের ছেলে মোঃ ছাত্তার মন্ডল দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে মাদক ব্যবসা ও অসামাজিক কার্যকলাপ চালিয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ছাত্তার মন্ডল এলাকায় ইয়াবা, হেরোইনসহ বিভিন্ন মাদক সরবরাহ করে আসছে এবং এর সাথে জুয়ার আসর পরিচালনারও অভিযোগ রয়েছে। তার এসব কর্মকাণ্ডে গ্রামের যুব সমাজ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিশেষ করে যুবক-যুবতীরা মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়ছে, যা সমাজের জন্য বড় ধরনের হুমকি হিসেবে দেখা দিয়েছে।
এলাকাবাসী জানান, ছাত্তার মন্ডলের বিরুদ্ধে একাধিকবার মৌখিক অভিযোগ করা হলেও অজ্ঞাত কারণে তার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে দিন দিন তার প্রভাব ও দৌরাত্ম্য আরও বেড়ে চলেছে।
মেরুর চর গ্রামের সচেতন মহল বলেন, “আমাদের এলাকার ছেলেমেয়েরা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আমরা চাই প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে এই মাদক ব্যবসা বন্ধ করুক এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনুক।”
স্থানীয়রা আরও জানান, মাদক ব্যবসার কারণে এলাকায় চুরি, ছিনতাইসহ নানা অপরাধও বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা জনজীবনে চরম অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে।
এ বিষয়ে বকশীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী। তারা দ্রুত অভিযান চালিয়ে মাদক ও জুয়ার আস্তানা উচ্ছেদ এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
(উল্লেখ্য: অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে সংযুক্ত করা হবে।)
তার নামে একাধিক মামলাও আছে:
বকশীগঞ্জের ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসী সাত্তার গ্রেপ্তার
স্টাফ রিপোর্টার
জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার মেরুরচর ইউনিয়নের ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসী একাধিক মামলার আসামী আব্দুল সাত্তারকে (৩৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মারামারির ঘটনায় করা অভিযোগের ভিত্তিতে গত ২৯ জুন রাতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আব্দুল সাত্তার মেরুরচর উত্তর পাড়া এলাকার তালেব মন্ডলের ছেলে ।
জানা গেছে, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে সন্ত্রাসী সাত্তার ও তার বাহিনী দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে গত ২২ জুন বিকেলে একই এলাকার মৃত তোফাজ্জল হোসেনের ছেলে আলমাছ আলীর বাড়ীতে গিয়ে হামলা করে। এসময় সন্ত্রাসীরা আলমাছ আলীকে হত্যার উদ্দেশ্যে ধাঁরালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরতর আহত করে। এঘটনায় আলমাছ আলী বাদী হয়ে সন্ত্রাসী সাত্তারকে প্রধান করে ১৮ জনের নাম উল্লেখ করে বকশিগঞ্জ থানা লিখিত অভিযোগ করেন। পরে থানা পুলিশ সাত্তারকে গ্রেপ্তার করে। অভিযোগটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করেন পুলিশ।
আলমাছ আলী বলেন, শুধু আমাকে মারধার করেই সাত্তার বাহিনী ক্ষ্যান্ত হয়নি। আমার স্ত্রী ও ভাবীকে শারীরিকভাবে লাঞ্চিত করেছে। স্ত্রীর গলায় থাকা ৩৫ হাজার টাকা দামের একটি স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেয়। চলে যাওয়ার সময় প্রাণ নাশের হুমকি দিয়ে যায়।
স্থানীয় ফজলুল হক জানান, সাত্তার ওই এলাকার ত্রাস। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। গত ইউপি নির্বাচনে সহিংসতার ঘটনা ঘটানো অপরাধে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে পুলিশের গাড়ি পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। জুয়া, মাদক, ছিনতাই, ডাকাতি, অন্যের জমি দখলসহ এমন কোন অপকর্ম নেই যে সাস্তার ও তার বাহিনী করেনি। তাদের অত্যারে অতিষ্ট এলাকার সাধারণ নিরীহ মানুষ। এবাহিনীর কাছে এলাকার নারীরাও নিরাপদ নয়। সত্তার বিশ থেকে পচিশ সদস্যের একটি শক্তিশালী মন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে তুলে দীর্ষদিন ধরে এলাকায় নানা অপকর্ম করে আসছে। তাকে গ্রেপ্তার করায় এলাকায় স্বস্থি ফিরে আসলেও তার বাহিনী অধরা থাকায় আতঙ্ক খাটছেনা সাধারণ মানুষের। তাই সাত্তার বাহিনীর অন্য সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান তিনি।
বকশীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তরিকুল ইসলাম বলেন, মামলার প্রধান আসামী আব্দুল সাত্তারকে গ্রেপ্তার করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।