নিজেকে পুলিশের এএসপি পরিচয় দিয়ে প্রেম অত:পর পুলিশের জালে ধরা পড়লেন যুবক
সাজ্জাদ হোসেন বাপ্পি,রংপুর প্রতিনিধি ॥ প্রেমের সম্পর্কে নিজেকে বড় করে তুলে ধরতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত পুলিশের জালে ধরা পড়লেন এক যুবক। নিজেকে পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) পরিচয় দিয়ে জাল পরিচয়পত্র তৈরি করতে গিয়ে আটক হয়েছেন মোস্তাফিজুর রহমান নামে ওই যুবক।
মঙ্গলবার দুপুরে রংপুর প্রেস ক্লাব মার্কেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে তাকে নগরীর কোতোয়ালি থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। আটক মোস্তাফিজুর রহমান দিনাজপুর জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার দাউদপুর ইউনিয়নের দুমাইল গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবার নাম মোখলেছুর রহমান।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলতে মোস্তাফিজুর নিজেকে পুলিশের একজন এএসপি হিসেবে পরিচয় দেন। কিন্তু একপর্যায়ে তার কথাবার্তায় সন্দেহ দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট নারী তার চাকরির প্রমাণ হিসেবে আইডি কার্ড দেখতে চান। এতে বিপাকে পড়ে তিনি জাল পরিচয়পত্র তৈরির পরিকল্পনা করেন।
এ উদ্দেশ্যে তিনি রংপুর নগরীর প্রেস ক্লাব মার্কেটের নিচতলার আরটি প্রেস নামের একটি দোকানে গিয়ে নিজেকে এএসপি পরিচয় দেন এবং আইডি কার্ড তৈরি করে দেওয়ার অনুরোধ করেন। তবে দোকান মালিক আসল পরিচয়পত্রের ফটোকপি দেখতে চাইলে তা দেখাতে না পারায় সন্দেহের সৃষ্টি হয়।
পরবর্তীতে বিষয়টি প্রেসক্লাব দোকান মালিক সমিতিকে জানানো হলে সমিতির নেতারা এসে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। একপর্যায়ে মোস্তাফিজুর স্বীকার করেন যে, তিনি প্রেমিকার কাছে নিজের মিথ্যা পরিচয় প্রমাণ করতে জাল আইডি কার্ড বানাতে এসেছেন। এরপর পুলিশকে খবর দেওয়া হলে তাকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়।
আটকের পর মোস্তাফিজুর বলেন, আমি একটি মেয়ের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িত। তাকে বলেছিলাম আমি পুলিশে চাকরি করি। সে প্রমাণ চাইলে এআই ব্যবহার করে আইডি কার্ড তৈরি করে সেটি প্রিন্ট করতে দোকানে আসি।
এ বিষয়ে রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানার ওসি আজাদ রহমান জানান, অভিযুক্তকে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তার পরিবারের সদস্যদের ডাকা হয়েছে এবং তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনাটি স্থানীয়দের মধ্যে কৌতূহলের সৃষ্টি করেছে। প্রেমের সম্পর্কে বিশ্বাসযোগ্যতা দেখাতে গিয়ে এমন প্রতারণার আশ্রয় নেওয়ার ঘটনাকে অনেকেই দৃষ্টান্তমূলক শিক্ষা হিসেবে দেখছেন।