"গ্রামে কেন রিহাব?"
মাদকাসক্তি বর্তমানে বাংলাদেশের অন্যতম সামাজিক সমস্যা। নেশাজাতীয় দ্রব্যের প্রতি অতিরিক্ত নির্ভরশীলতাকে মাদকাসক্তি বলা হয়। এটি শুধু একজন ব্যক্তির জীবনই নয়, পরিবার, সমাজ এবং দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
বাংলাদেশের বিভিন্ন গ্রামে মাদকাসক্ত তরুণের সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর থানার একটি সবুজে ঘেরা গ্রামেও এর ব্যতিক্রম দেখা যায় না। নদীর তীরে গড়ে ওঠা এই শান্ত গ্রামে মানুষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বিদ্যমান। তবে সাম্প্রতিক সময়ে মাদকাসক্তির বিস্তারের কারণে এখানে তরুণদের পুনর্বাসনের জন্য একটি রিহ্যাবিলিটেশন (রিহাব) কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
একজন মা আক্ষেপ করে বলেন, "আমার একমাত্র ছেলে খুব আদরের ছিল। ভালো চাকরি করত। কিন্তু মাদকের কারণে আজ তাকে রিহাবে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।"
বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি দেশের উন্নয়নে তরুণ সমাজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু তরুণরা মাদকাসক্ত হয়ে পড়লে শুধু একটি পরিবার নয়, পুরো সমাজ ও দেশ অর্থনৈতিক এবং সামাজিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়।
পারিবারিক অশান্তি, হতাশা, সঙ্গদোষ, বেকারত্ব এবং সামাজিক সচেতনতার অভাবসহ বিভিন্ন কারণে তরুণরা মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়ে। তাই সন্তানদের সঙ্গে বাবা-মায়ের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলা এবং মাদকের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে সচেতন করা অত্যন্ত জরুরি।
কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য তরুণদের শক্তি ও সম্ভাবনার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে লিখেছিলেন,
"এদেশের বুকে আঠারো আসুক নেমে।"
চিকিৎসকদের মতে, মাদকাসক্তির ফলে শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে, স্মৃতিশক্তি হ্রাস পায়, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায় এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
সচেতনতা বৃদ্ধি, পারিবারিক সহযোগিতা এবং সামাজিক উদ্যোগের মাধ্যমে মাদকাসক্তি প্রতিরোধ করা সম্ভব। সমাজের প্রত্যেক মানুষের উচিত সমস্যায় আক্রান্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের পুনরুদ্ধারে সহযোগিতা করা।
লেখক: সায়মা আক্তার। কালিয়াকৈর, গাজীপুর।