"যুবকরা কেন চাকরির জন্য ছোটে"
সায়মা আক্তার:
ফারসি ভাষা থেকে বাংলা ভাষায় এসেছে ‘চাকরি’ শব্দটি। বাংলাদেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতায় চাকরির গুরুত্ব অপরিসীম।
বর্তমানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের তরুণ-তরুণীরা চাকরির সন্ধানে ছুটে বেড়াচ্ছেন। গাজীপুরসহ নানা জেলায় কর্মসংস্থানের খোঁজে অনেক যুবককে দেখা যায়। ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিদিন অসংখ্য তরুণ চাকরির প্রয়োজনের কথা জানাচ্ছেন।
তাদের অনেকেই বলেন, জীবিকা নির্বাহ এবং পরিবারকে সহায়তা করার জন্য তারা চাকরি খুঁজছেন। আবার কেউ কেউ মনে করেন, চাকরি শুধু আয়ের উৎস নয়; এটি নতুন দক্ষতা অর্জন, অভিজ্ঞতা সঞ্চয় এবং নিজের পরিচয় গড়ে তোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।
গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর থানার শিক্ষার্থী ইউসুফ আলী বলেন, "আমি এইচএসসি পাস করার পর থেকে চাকরি খুঁজছি, কিন্তু এখনও কোনো চাকরি পাইনি। উচ্চশিক্ষা চালিয়ে যাওয়ার জন্য আর্থিক সহায়তা প্রয়োজন। চাকরি না পাওয়ায় সেই ব্যবস্থা করতে পারছি না।"
তরুণদের স্বপ্ন, উদ্যম ও সাহসের কথা স্মরণ করিয়ে দেয় কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য-এর সেই বিখ্যাত পঙ্ক্তি—
“আঠারো বছর বয়স কী দুঃসহ-
স্পর্ধায় নেয় মাথা তোলবার ঝুঁকি।”
তবে অনেক তরুণের অভিযোগ, উপযুক্ত যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও তারা কাঙ্ক্ষিত চাকরি পাচ্ছেন না। অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানে পূর্ব অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়, ফলে নতুন চাকরিপ্রার্থীরা প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়েন। এছাড়া দ্রুত চাকরি পাওয়ার আশায় অনেকেই বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে অর্থ জমা দিয়ে প্রতারণার শিকার হচ্ছেন।
প্রত্যেক সন্তানই চায় নিজের এবং পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে। তাই তরুণদের প্রত্যাশা, শিক্ষার্থী ও নতুন স্নাতকদের জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান আরও বেশি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে। এতে তারা তাদের মেধা, সৃজনশীলতা ও দক্ষতার যথাযথ বিকাশ ঘটিয়ে দেশের উন্নয়নে অবদান রাখতে পারবেন।
— সায়মা আক্তার
ফিচার লেখক (শিক্ষার্থী)