কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ভিজিএফে চাল চুরি! ৫০ কেজির বস্তায় মিলল ৪০ কেজি চাল
নজরুল ইসলাম মুকুল, কুষ্টিয়া :
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ভিজিএফের চাল বিতরণকে কেন্দ্র করে ব্যাপক অনিয়ম ও চাল আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে শুরু হওয়া ভিজিএফ কর্মসূচির চাল বিতরণে উপজেলা খাদ্য গুদামের ইনচার্জ (ওসি এলএসডি) সেলিম রেজার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ করেছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও ভুক্তভোগীরা।
অন্যদিকে, এই চাউল ইউনিয়ন পর্যায়ে গিয়ে অসহায় মানুষের জন্য বরাদ্দকৃত ১০ কেজি চাউলের পরিবর্তে বিতরণ হচ্ছে মাত্র ৬ থেকে ৭ কেজি।
উপজেলার ১৪ টি ইউনিয়ন পরিষদে অসহায়দের সাথে একইভাবে প্রতারণা করা হচ্ছে বলে তথ্য মিলেছে।
অভিযোগে জানা গেছে, ৫০ কেজির বস্তায় সরবরাহ করা হচ্ছে মাত্র ৪০ কেজি চাল। এছাড়া ইউনিয়ন পর্যায়ে অসহায় মানুষের জন্য বরাদ্দকৃত ১০ কেজি চালের পরিবর্তে অনেক ক্ষেত্রে বিতরণ করা হচ্ছে মাত্র ৬ থেকে ৭ কেজি।
সরকারি বরাদ্দ অনুযায়ী চাল সরবরাহ করা হলেও অধিকাংশ বস্তায় নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে কম চাল পাওয়া গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন পরিষদে চাল বিতরণ এবং ফুড অফিসের গুদাম থেকে ব্যাপক অনিয়ম চলছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
ভিজিএফ (ভালনারেবল গ্রুপ ফিডিং) কর্মসূচি সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রম। ঈদ, দুর্গাপূজা কিংবা প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় দরিদ্র ও অসহায় পরিবারের খাদ্য সহায়তা নিশ্চিত করতে এই কর্মসূচির আওতায় চাল বিতরণ করা হয়। স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে তালিকাভুক্ত সুবিধাভোগীদের মাঝে এসব চাল বিতরণ করা হয়ে থাকে।
জানা গেছে, দৌলতপুর উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নে প্রায় ২০ হাজারের বেশি কার্ডধারী পরিবার ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় রয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ঈদুল আজহা উপলক্ষে প্রতিটি অসহায় পরিবারকে ১০ কেজি করে চাল দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী বরাদ্দকৃত চালের সঠিক ওজন নিশ্চিত করে স্বচ্ছতার সঙ্গে বিতরণ করার বাধ্যবাধকতাও রয়েছে।
এরই ধারাবাহিকতায় রিফায়েতপুর ইউনিয়নে ১ হাজার ৮০৫টি কার্ডের বিপরীতে মোট ১৮ হাজার ৫০ কেজি চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়, যা ৫০ কেজির ৩৫৫টি বস্তার সমপরিমাণ। কিন্তু ইউনিয়ন পরিষদে চাল পৌঁছানোর পর দেখা যায়, অধিকাংশ বস্তায় ৫০ কেজির পরিবর্তে ৪০ থেকে সর্বোচ্চ ৪৮ কেজি পর্যন্ত চাল রয়েছে। এতে শুধুমাত্র রিফায়েতপুর ইউনিয়নেই প্রায় ১ হাজার ১০০ কেজি চাল কম পাওয়া গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দাবি, ভিজিএফের মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সহায়তা কর্মসূচিতে এ ধরনের অনিয়ম অসহায় মানুষের অধিকার ক্ষুণ্ন করছে। তারা দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
চাল পরিবহন ও খালাস কাজে নিয়োজিত শ্রমিক বাদল ও মামুন জানান, তারা ৩৫৫ বস্তা চাল ইউনিয়ন পরিষদে নামিয়েছেন। বস্তার গায়ে ৫০ কেজি নিট ওজন লেখা থাকলেও বাস্তবে কোনো বস্তাতেই সেই পরিমাণ চাল পাওয়া যায়নি।
রিফায়েতপুর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বকুল বলেন, ঈদুল আজহা উপলক্ষে অসহায় মানুষের জন্য বরাদ্দকৃত চালের অধিকাংশ বস্তাতেই ওজন কম পাওয়া গেছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে দৌলতপুর উপজেলা খাদ্য গুদামের ইনচার্জ সেলিম রেজা ক্যামেরার সামনে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান। একই সঙ্গে তিনি সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ করেন এবং পরে ব্যক্তিগতভাবে দেখা করার কথা বলেন।
এ বিষয়ে দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনিন্দ্য গুহ বলেন, বিষয়টি এখনও আমার নজরে আসেনি। কোনো ইউনিয়ন পরিষদ থেকেও আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। তবে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তদন্ত করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।