বুধবার, ২৭ মে ২০২৬
সারাদেশ

ঈদের আগে তাড়াইলে মসলার দামে ঝাঁঝ, নিত্যপণ্যের বাজারেও আগুন

অনলাইন ডেস্ক ২৫ May ২০২৬ · Monday · ০২:০৩ অপরাহ্ণ
ঈদের আগে তাড়াইলে মসলার দামে ঝাঁঝ, নিত্যপণ্যের বাজারেও আগুন


রুহুল আমিন, তাড়াইল (কিশোরগঞ্জ):

পবিত্র ঈদুল আজহার আর মাত্র দু'দিন বাকি। ঈদ ঘনিয়ে আসতেই বাজারে মসলাসহ নিত্যপণ্যের দাম যেন আকাশ ছুঁয়েছে।  উৎসবের আনন্দের আগে এখন সাধারণ মানুষের লড়াই-দাম আর ভোগান্তির বিরুদ্ধে।
কোরবানির ঈদ মানেই রান্নাঘরে মসলার ছড়াছড়ি, আর সেই সুবাসে ভরে ওঠে উৎসবের আবহ। কয়েকদিনের ব্যবধানে প্রায় সব ধরনের মসলার দাম বেড়ে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি চাপের মুখে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা।

কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলা সদর বাজার ঘুরে সোমবার (২৫ মে) ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, এলাচ বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে কেজি প্রতি ৪ হাজার ২০০ থেকে ৫ হাজার ১০০ টাকায়। লবঙ্গ ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার টাকা, জিরা ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা, দারুচিনি ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা এবং ধনিয়ার গুঁড়া ২৫০ টাকার বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া আদা, রসুন ও পেঁয়াজের দামেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে।

তাড়াইল উপজেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে কিছুটা পরিবর্তন এসেছে। ব্রয়লার মুরগি বর্তমানে প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ১৭০ টাকায়, যা কয়েক দিন আগেও ১৮০ টাকার ওপরে ছিল। একইভাবে কমেছে সোনালি জাতের মুরগির দাম। এ জাতের মুরগি এখন কেজি প্রতি ৩১০ থেকে ৩২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর দেশি মুরগির দাম রয়েছে ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকার মধ্যে। অন্যদিকে, ডজন প্রতি ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৩০ থেকে ১৩৫ টাকায়। গত এক সপ্তাহের তুলনায় ডিমের দামে ডজনে ১০ থেকে ১৫ টাকা এবং ব্রয়লার মুরগি কেজিতে প্রায় ১০ টাকা কমেছে। তবে গরুর মাংস এখনও কেজি প্রতি ৮০০ টাকায় স্থিতিশীল রয়েছে। ব্যবসায়ীদের মতে, সরবরাহ কিছুটা বাড়ায় এসব পণ্যের দামে এই পরিবর্তন দেখা গেছে।

তাড়াইল সদর বাজারে মুরগি কিনতে আসা মাশরাফি হাসান বলেন, ‘কয়েকদিন আগে ১৮০ টাকা কেজি দরে কিনেছিলাম। আজ ১৬০ টাকায় পেলাম, কিছুটা স্বস্তি লাগছে।’ মুরগি বিক্রেতা আল আমিন বলেন, ‘গত সপ্তাহের তুলনায় সরবরাহ বেশি রয়েছে, তাই মুরগির দাম কিছুটা কমেছে।’

তবে ঈদের প্রধান অনুষঙ্গ পোলাও চালের বাজারে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। বর্তমানে মানভেদে পোলাও চাল ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে, যা কিছুদিন আগেও ছিল ১৩০ টাকার মধ্যে। একইভাবে চিনিগুঁড়া চালের প্যাকেট বিক্রি হচ্ছে ১৭০ থেকে ১৭৫ টাকায় এবং খোলা সুগন্ধি চাল ১৪০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ঈদ উপলক্ষে সেমাই ও নুডুলসের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বাজারে ২০০ গ্রাম প্যাকেট সেমাই ৪০ থেকে ৪৫ টাকা, ৮০০ গ্রাম বোম্বাই সেমাই ২৮০ টাকা এবং খোলা লাচ্ছা সেমাই ১৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বিভিন্ন ব্র্যান্ডের নুডুলসের দামও বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ক্রেতারা।

এদিকে সালাদের উপকরণ হিসেবে ব্যবহৃত শসা, টমেটো, লেবু ও কাঁচামরিচের বাজারেও চাপ দেখা গেছে। বর্তমানে শসা বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি, টমেটো ৬০ থেকে ৭০ টাকা এবং কাঁচামরিচ ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে। তবে লেবুর বাজারে কিছুটা স্বস্তি রয়েছে। ২০ থেকে ৩০ টাকায় এক হালি লেবু বিক্রি হতে দেখা গেছে।

ভোজ্যতেলের বাজারেও চলছে অস্থিরতা। খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে কেজি প্রতি ১৯০ থেকে ২০০ টাকায়। অনেক দোকানে বোতলজাত তেলের সরবরাহ কম থাকায় ক্রেতাদের বাড়তি দামে কিনতে হচ্ছে। বোতলের গায়ে লেখা দামের চেয়ে লিটার প্রতি ৫ থেকে ১০ টাকা বেশি গুনতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করছেন ক্রেতারা।

বিক্রেতারা জানান, ঈদকে সামনে রেখে বাজারে ক্রেতার চাপ বেড়ে যাওয়ায় বেশিরভাগ পণ্যের চাহিদাও বেড়েছে। বিশেষ করে পোলাওয়ের চাল, মসলা, তেল, সেমাই ও শুকনো খাদ্যপণ্যের পাইকারি দাম কয়েকদিন ধরেই ঊর্ধ্বমুখী। ফলে খুচরা বাজারেও বাড়তি দামে পণ্য বিক্রি করতে হচ্ছে। তাদের মতে, আমদানি ব্যয়, পরিবহন খরচ এবং সরবরাহ ব্যবস্থার চাপের কারণেই বাজারে এই অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।

বাজার করতে আসা একজন ক্রেতা বলেন, ‘ঈদকে সামনে রেখে পরিবারের জন্য বাজার করতে এসেছি। কিন্তু বাজারে এসে দেখি প্রায় সব জিনিসের দামই আগের চেয়ে অনেক বেশি। পোলাওয়ের চাল, তেল, মসলা, সেমাই, নুডুলস-যেটাই কিনতে যাচ্ছি, দাম শুনে হিসাব মিলাতে কষ্ট হচ্ছে। একেকটা পণ্যে ২০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। আমাদের মতো মধ্যবিত্ত মানুষের জন্য ঈদের বাজার করা এখন অনেক কঠিন হয়ে গেছে। বাজার মনিটরিং ঠিকভাবে হলে হয়তো সাধারণ মানুষ কিছুটা স্বস্তি পেতো।’

অন্যদিকে সবজির বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। অধিকাংশ সবজি বর্তমানে ৬০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। কেজি প্রতি করলা ৬০ টাকা, গোল ও লম্বা বেগুন ৭০ টাকা, শসা ৬০ টাকা, টমেটো ৮০ থেকে ৯০ টাকা, পটল ও ঝিঙ্গা ৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া বরবটি, পেঁপে, চিচিঙ্গা ও ধুন্দুল-সবই কেজি প্রতি ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। লাউ প্রতি পিস ৫০ থেকে ৬০ টাকা, কাঁচা কলা প্রতি হালি ৬০ টাকা, জালি প্রতি পিস ৬০ থেকে ৮০ টাকা, ঢেঁড়স ৪০ টাকা এবং মিষ্টি কুমড়া কেজি প্রতি ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে মাছের বাজার ঘুরে দেখা যায় সেখানেও দাম চড়া। প্রতি কেজি পাঙাশ ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, তেলাপিয়া ২০০ থেকে ২৩০, রুই ২৪০ থেকে ৩৫০, মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০, দেশি টেংরা ৬০০, বেলে ৩৫০ টাকা, বাইন ৬০০ থেকে ৮০০, চিংড়ি ৯০০, পাবদা ৩৫০, কই ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, শিং ৪০০ টাকা, পোয়া ২৬০ টাকা, সইল ৭০০ টাকা, টাকি ৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। মাছ বিক্রেতারা জানিয়েছেন, ঈদকে সামনে রেখে বাজারে মাছের চাহিদা বেড়েছে। পাশাপাশি নদী ও খামার থেকে সরবরাহ কিছুটা কম থাকায় বেশিরভাগ মাছের দাম বাড়তি। মাছ কিনতে আসা রেজাউল করিম বলেন, ‘ঈদের আগে মাছের বাজারে এসে দেখি প্রায় সব মাছের দামই অনেক বেশি। পরিবার নিয়ে ভালো কিছু খাওয়ার ইচ্ছা থাকলেও বাজেটের কারণে অনেক সময় কম দামের মাছেই সীমাবদ্ধ থাকতে হচ্ছে।’

বাজার করতে আসা ক্রেতাদের অভিযোগ, প্রতি ঈদের আগেই অসাধু ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে বাজার অস্থির করে তোলে। তাদের দাবি, কার্যকর বাজার মনিটরিং ও কঠোর নজরদারি না থাকলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়তে থাকা।

মন্তব্য

এখনও কোনো মন্তব্য নেই।

আরও পড়ুন

ঈদে হলে থাকা শিক্ষার্থীদের জন্য প্রীতিভোজের আয়োজন করছে কুবির বিজয়-২৪ হল

ঈদে হলে থাকা শিক্ষার্থীদের জন্য প্রীতিভোজের আয়োজন করছে কুবির বিজয়-২৪ হল

কুবি প্রতিনিধি :পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটিতে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বিজয় ২৪ হলে অবস্থ...

২৬ May ২০২৬ · Tuesday · ০৯:৪৩ অপরাহ্ণ
জিনারী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোঃ আজহারুল ইসলামের ঈদ শুভেচ্ছা

জিনারী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোঃ আজহারুল ইসলামের ঈদ শুভেচ্ছা

সঞ্জিত চন্দ্র শীল, হোসেনপুর (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধিঃহোসেনপুর উপজেলার ১নং জিনারী ইউনিয়নের সর্...

২৬ May ২০২৬ · Tuesday · ০৯:৪১ অপরাহ্ণ
তাহিরপুরে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা বিতরণ করলেন এমপি কামরুল

তাহিরপুরে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা বিতরণ করলেন এমপি কামরুল

মুরাদ মিয়া,তাহিরপুর,সুনামগঞ্জ।প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সুনামগঞ্জে...

২৬ May ২০২৬ · Tuesday · ০৯:৩৮ অপরাহ্ণ