বকশীগঞ্জে ৩০ পিস ইয়াবাসহ স্বেচ্ছাসেবক দলের ৩ নেতা আটক, এলাকায় চাঞ্চল্য
সামরুল হক, স্টাফ রিপোর্টার:
জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে ৩০ পিস ইয়াবাসহ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের তিন নেতাকে আটক করেছে পুলিশ। বুধবার (২০ মে) দুপুরে উপজেলার ধানুয়া কামালপুর ইউনিয়নের কামালপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের হাতেনাতে আটক করা হয়। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং স্থানীয়দের মাঝে নানা আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি এলাকায় মাদকদ্রব্যের বিস্তার রোধে বকশীগঞ্জ থানা পুলিশের পক্ষ থেকে বিশেষ নজরদারি কার্যক্রম জোরদার করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বকশীগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রাসেল আহমেদের নেতৃত্বে একটি বিশেষ মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে কামালপুর এলাকার একটি স্থানে সন্দেহজনক গতিবিধির কারণে তিন ব্যক্তিকে আটক করে তল্লাশি চালানো হয়।
তল্লাশির একপর্যায়ে তাদের কাছ থেকে ৩০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। পরে ঘটনাস্থলেই তাদের আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পুলিশের দাবি, উদ্ধার হওয়া ইয়াবা তারা বহন করছিলেন এবং প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্যও পাওয়া গেছে। বিষয়টি নিয়ে আরও তদন্ত চলছে।
আটককৃতরা হলেন— ধানুয়া কামালপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক মাসুম মিয়া, ৪ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক নূর আলম এবং একই ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক তারনিজ। রাজনৈতিক পরিচয়ের ব্যক্তিদের এমন ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ সামনে আসায় স্থানীয় মহলে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, মাদক বর্তমানে সমাজের জন্য এক ভয়াবহ অভিশাপে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে তরুণ সমাজ মাদকের ভয়াল থাবায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে মাদক নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত অভিযান আরও জোরদার করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।
এ বিষয়ে বকশীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মকবুল হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আটককৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হবে।
তিনি আরও বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর। সমাজ থেকে মাদক নির্মূল করতে আমাদের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে। মাদক ব্যবসা কিংবা বহনের সঙ্গে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।”
এদিকে ঘটনার পর থেকে এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, সমাজকে মাদকমুক্ত রাখতে রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। স্থানীয় সচেতন মহলও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এ ধরনের অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছেন।