বকশীগঞ্জে পাগলা কুকুরের ভয়াবহ তাণ্ডব: দুই দিনে আহত ৩০-৩৫ জন
সামরুল হক, স্টাফ রিপোর্টার :
জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার ধানুয়া কামালপুর এলাকায় পাগলা কুকুরের ভয়াবহ আক্রমণে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। গত মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে উন্মত্ত কুকুরের হামলায় নারী, পুরুষ ও শিশুসহ প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ জন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। আহতদের মধ্যে অন্তত ২ থেকে ৩ জনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে, যা এলাকাজুড়ে আরও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, হঠাৎ করেই কয়েকটি উন্মত্ত কুকুর এলাকায় প্রবেশ করে পথচারী, কৃষক, দোকানদার, শিশু ও সাধারণ মানুষের ওপর এলোপাতাড়ি হামলা চালাতে শুরু করে। কেউ রাস্তায় হাঁটছেন, কেউ বাজারে যাচ্ছেন কিংবা কেউ বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে আছেন—এমন অবস্থাতেও কুকুরের হামলার শিকার হচ্ছেন অনেকে। এতে পুরো এলাকায় এক ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
এলাকাবাসী জানান, পাগলা কুকুরগুলোর আচরণ ছিল অত্যন্ত অস্বাভাবিক ও ভয়ংকর। তারা দলবদ্ধভাবে বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বেড়িয়ে মানুষকে লক্ষ্য করে হঠাৎ আক্রমণ করছে। কুকুরগুলোর এমন আচরণে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক চরমে পৌঁছেছে। বিশেষ করে শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে সবচেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন অভিভাবকরা।
আহতদের মধ্যে অনেককে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতাল ও ক্লিনিকে নেওয়া হয়েছে। গুরুতর আহত কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, কুকুরের কামড়ে আহতদের দ্রুত চিকিৎসা এবং প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিন গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি।
এদিকে সীমান্তবর্তী এই এলাকার কিছু বাসিন্দার ধারণা, পাগলা কুকুরগুলো পার্শ্ববর্তী ভারতীয় সীমান্ত এলাকা থেকে প্রবেশ করে থাকতে পারে। যদিও এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি বা নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি, তবে সীমান্ত ঘেঁষা অঞ্চলে এমন ঘটনার কারণে জনমনে নতুন করে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এ ঘটনার পর থেকে এলাকায় আতঙ্কের ছাপ স্পষ্ট। অনেক অভিভাবক তাদের সন্তানদের বাড়ির বাইরে যেতে দিচ্ছেন না। স্কুলগামী শিশুদের নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন উদ্বেগ। সন্ধ্যার পর মানুষজন অপ্রয়োজনে ঘর থেকে বের হওয়া এড়িয়ে চলছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত প্রশাসন, প্রাণিসম্পদ বিভাগ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, দ্রুত উন্মত্ত কুকুরগুলোকে শনাক্ত করে নিয়ন্ত্রণে আনা না গেলে আরও বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
এ বিষয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভও দেখা গেছে। একাধিক বাসিন্দা জানান, বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের অবহিত করা হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি।
আতঙ্কিত এক অভিভাবক বলেন,“আমরা চরম ভয়ের মধ্যে দিন কাটাচ্ছি। আমাদের সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে ভয় হচ্ছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।”
এলাকাবাসীর জোর দাবি, দ্রুত জরুরি অভিযান চালিয়ে পাগলা কুকুরের উপদ্রব নিয়ন্ত্রণে এনে মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক। পাশাপাশি আক্রান্তদের জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তা ও পর্যাপ্ত জলাতঙ্ক প্রতিরোধী ভ্যাকসিনের ব্যবস্থা করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।