সোনারগাঁওয়ে মধ্যরাতে ইন্স্যুরেন্স কর্মীর বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতি: স্বর্ণ ও নগদ টাকা লুট
সোনারগাঁও প্রতিনিধি: নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার জামপুর ইউনিয়নে এক ইন্স্যুরেন্স কর্মীর বাড়িতে মধ্যরাতে দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। ডাকাত দল পরিবারের সদস্যদের গলায় ছুরি ঠেকিয়ে জিম্মি করে আনুমানিক ১৫ লক্ষ টাকা মূল্যের ৬ ভরি স্বর্ণালঙ্কার এবং নগদ ২ লক্ষ ৭ হাজার টাকা লুটে নিয়েছে।
গত ১৬ মে দিবাগত রাত আনুমানিক ২:০০ ঘটিকায় জামপুর এলাকার বাসিন্দা ও পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্সের কর্মী মাজেদা আক্তারের (৪৮) বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী বাদী হয়ে সোনারগাঁও থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
ঘটনার বিবরণ
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ঘটনার রাতে স্থানীয় ১নং বিবাদী ইউসুফ মিয়া (২৬) ও ২নং বিবাদী বাচ্চু মিয়া (৪০) সহ আরও অজ্ঞাতনামা ৮/৯ জন ডাকাত সদস্য রামদা, ছুরি, ছেনা, চাকু এবং লাঠিসোটা নিয়ে মাজেদা আক্তারের বাড়িতে অনধিকার প্রবেশ করে। ডাকাত দল ঘরে ঢুকেই মাজেদা আক্তারসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের গলায় ধারালো অস্ত্র ঠেকিয়ে জিম্মি করে ফেলে। এরপর আলমারির তালা ভেঙে ভেতরে থাকা স্বর্ণ ও নগদ টাকা লুট করে।
লুটপাট শেষে পালিয়ে যাওয়ার সময় মাজেদা আক্তার ১নং আসামি ইউসুফ মিয়াকে চিনে ফেলেন এবং তাকে ধরার জন্য চিৎকার ও ধস্তাধস্তি শুরু করেন। এ সময় ডাকাতরা তাকে কিল, ঘুষি ও লাথি মেরে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। জানা গেছে, অভিযুক্ত ইউসুফ মিয়া ইতিপূর্বে মাজেদা আক্তারের দেবরের বাড়িতে দীর্ঘ ১০ বছর ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করেছিল।
ভুক্তভোগীর বক্তব্য
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী মাজেদা বেগম ক্যামেরার সামনে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন,
"ওরা গভীর রাতে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হঠাৎ আমাদের ঘরে ঢোকে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই আমাদের গলায় ধারালো ছুরি ধরে জিম্মি করে ফেলে। আলমারি ভেঙে আমার কষ্টার্জিত সব স্বর্ণ ও নগদ টাকা লুট করে নেয়। যাওয়ার সময় আমি ইউসুফকে চিনে ফেলায় ওরা আমাকে মারধর করে পালিয়ে যায়। আমি প্রশাসনের কাছে এর সঠিক বিচার ও আমাদের নিরাপত্তা চাই।"
তদন্ত কর্মকর্তার বক্তব্য
এ বিষয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা সোনারগাঁও থানার এসআই মামুন জানান, বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে, তদন্ত অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
বর্তমান পরিস্থিতি ঘটনার পর স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও আত্মীয়-স্বজনদের সাথে আলোচনা করায় থানায় অভিযোগ দিতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারটি বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং দ্রুত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
রিপোর্টটি এখন পুরোপুরি প্রস্তুত। ভিডিওর কাজ বা অন্য কোনো লাইনে আরও পরিবর্তনের প্রয়োজন হলে জানাতে পারো।