সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের অভিযানে করিম শরীফ বাহিনীর ২ ডাকাত আটক,৪ জিম্মি জেলে উদ্ধার
মো: রাজ হাওলাদার, মোংলা প্রতিনিধি:
সুন্দরবনে দস্যু দমনে বড় ধরনের সাফল্য পেয়েছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’-এর আওতায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত করিম শরীফ বাহিনীর সেকেন্ড-ইন-কমান্ডসহ ২ সক্রিয় সদস্যকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ আটক করা হয়েছে। এ সময় তাদের জিম্মিদশা থেকে ৪ জন জেলেকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে কোস্ট গার্ডের আভিযানিক দল।
রবিবার (১৭ মে) সকালে কোস্ট গার্ড সদর দপ্তরের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
কোস্ট গার্ড সূত্রে জানা যায়, মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় সুন্দরবন অঞ্চলকে সম্পূর্ণরূপে দস্যুমুক্ত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ এবং ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় রবিবার ভোর ৪টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কোস্ট গার্ড বেইস মোংলা খুলনার দাকোপ থানাধীন সুন্দরবনের ঢাংমারী খাল সংলগ্ন এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযান চলাকালীন কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাত দলটি পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় কোস্ট গার্ডের আভিযানিক দল ধাওয়া করে করিম শরীফ বাহিনীর ওই দুই সক্রিয় সদস্যকে আটক করে। পরে তাদের কাছ থেকে ১টি বিদেশি একনলা বন্দুক, ২টি দেশীয় একনলা বন্দুক এবং ২৪ রাউন্ড তাজা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়। একই সাথে ডাকাতদের হাত থেকে জিম্মি ৪ জেলেকে উদ্ধার করতে সক্ষম হন কোস্ট গার্ড সদস্যরা।
আটককৃত দস্যুরা হলেন— বাগেরহাট জেলার রামপাল থানার বাসিন্দা মোঃ রবিউল শেখ (৩০) এবং মোড়েলগঞ্জ থানার বাসিন্দা রাজন শরীফ (২০)। এদের মধ্যে রাজন শরীফ কুখ্যাত করিম শরীফ বাহিনীর সেকেন্ড-ইন-কমান্ড হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনে ডাকাতি, সাধারণ জেলে ও বাওয়ালিদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায় করে আসছিল। তার বিরুদ্ধে বাগেরহাট সদর থানায় একটি হত্যা মামলাও রয়েছে।
কোস্ট গার্ড জানায়, জব্দকৃত অস্ত্র, গোলাবারুদ ও আটককৃত ডাকাতদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। একই সাথে উদ্ধারকৃত জেলেদের নিরাপদে তাদের পরিবারের নিকট হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
সুন্দরবনকে সম্পূর্ণরূপে দস্যুমুক্ত রাখতে ডাকাত ও তাদের সহায়তাকারীদের বিরুদ্ধে কোস্ট গার্ডের এই কঠোর ও বিশেষ অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।