অষ্টগ্রামে ১৪৪ ধারা ভেঙে জমি দখলের সংবাদ প্রকাশের পর রাতেই জমি উদ্ধার করলো পুলিশ
বিজয় কর রতন,হাওর অঞ্চল প্রতিনিধি:
কিশোরগঞ্জের হাওর উপজেলা অষ্টগ্রামে কাস্তুল জিরোপয়েন্ট হিন্দু পাড়ায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা (১৪৪ ধারা) অমান্য করে একটি সংখ্যালঘু পরিবারের জমি ৪ এপ্রিল (শনিবার) একই এলাকার আবদুর রহমানের ছেলে দুলাল, কাউসার, মিজানগংরা ভোর রাতের অন্ধকারে টিনের বাউন্ডারী দিয়ে দখল করে নেয়। আদালতের আদেশ উপেক্ষা করে এ ধরনের দখল কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে আইনের শাসন নিয়ে প্রশ্ন উঠে।
এ নিয়ে দৈনিক সমকাল সহ বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় সংবাদ প্রকাশিত হয় এবং পাশাপাশি বিষয়টি অষ্টগ্রাম থানা পুলিশকে অবগত করা হয়। পরে একই দিন রাত সাড়ে দশটায় কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার ড. এস. এম. ফরহাদ হোসেনের নির্দেশে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অষ্টগ্রাম সার্কেল) মোঃ শহিদুল হকের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে দখলকৃত জায়গা থেকে টিনের বাউন্ডারী উচ্ছেদ করে জমি দখলমূক্ত করে মালামাল জব্দ করেন।
এখানে উল্লেখ্য যে, ২০০৩ সালের ২২ সেপ্টেম্বর ১৫৫৯ নং এওয়াজ বদল দলিলের মাধ্যমে সংখ্যালঘু হিন্দু পরিবারের লোকজন কাস্তুল মৌজার এস.এ ২৯০ খতিয়ানের অন্তর্ভুক্ত জমি ক্রয় করে দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখলে ছিলেন। জমিটি উপজেলার মসজিদজাম জমিদার পরিবারের ওয়ারিশদের কাছ থেকে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় কেনা হয় বলেও দাবি করেন তারা। কিন্তু উক্ত জমি দুলাল, কাউসার, মিজানগংরাও তাদের নিজের বলে দাবি করলে সংশ্লিষ্ট জমি নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল বর্তমানে বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। মামলার প্রেক্ষিতে গত ৯ ফেব্রুয়ারি আদালত উক্ত জমির ওপর ১৪৪ ধারা জারি করে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেন।
কিন্তু ৪ এপ্রিল (শনিবার) দুলাল, কাউসার, মিজানগংরা ভোর রাতের অন্ধকারে টিনের বাউন্ডারী দিয়ে দখল করে নিলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অষ্টগ্রাম সার্কেল) মোঃ শহিদুল হকের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে দখলকৃত জায়গা থেকে টিনের বাউন্ডারী উচ্ছেদ করে জমি দখলমূক্ত করে মালামাল জব্দ করেন।
হিন্দু পরিবারের লোকজন জানান, উক্ত এলাকায় আমরা ৬/৭ টি হিন্দু পরিবার বসবাস করছি। এ ঘটনার পর থেকে আমরা মারাত্মক ভাবে নিরাপত্তা হীনতায় ভূগছি।