লিংকরোডে এপিবিএন অভিযানে ধরা ‘মানবপাচার গডফাদার’ রোহিঙ্গা জঙ্গি তোহা
এইচ এম ফরিদুল আলম শাহীন, কক্সবাজার প্রতিনিধি:
১৬ মে ২০২৬
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কক্সবাজার শহরের লিংকরোড এলাকায় অভিযান চালিয়ে কথিত মানবপাচার চক্রের অন্যতম হোতা ও অভিযুক্ত রোহিঙ্গা জঙ্গি মোহাম্মদ তোহাকে গ্রেফতার করেছে ১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)। এ সময় তার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা, ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্রসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উখিয়ার লম্বাশিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্প-১/ইস্টের ডি-৫ ব্লকের বাসিন্দা এফসিএন নম্বর ১৫৫৫৪৬ধারী আহমদ হোসেনের ছেলে মোহাম্মদ তোহাকে গোয়েন্দা নজরদারির আওতায় রাখা হয়েছিল দীর্ঘদিন ধরে।
শনিবার ভোরে চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারে আগমনের পর লিংকরোড এলাকায় পুরবী পরিবহনের একটি বাস থেকে নেমে টেকনাফগামী সি-লাইন বাসে ওঠার সময় এপিবিএনের একটি চৌকস দল তাকে আটক করে। পরে তাকে লম্বাশিয়া পুলিশ ক্যাম্প এলাকায় নিয়ে গিয়ে হেড মাঝির উপস্থিতিতে তার নিজ শেল্টারে তল্লাশি চালানো হয়।
উদ্ধারকৃত মালামাল
তল্লাশিতে তোহার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়—
বাংলাদেশি নগদ ৫৩ হাজার টাকা
সৌদি আরবের ৩,২৫০ রিয়াল
মালয়েশিয়ার ৩,৩০০ রিংগিত
৬০০ মার্কিন ডলার
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের নামে প্রস্তুতকৃত জাতীয় সনদ
তার কন্যা আনাস তোহার জন্মনিবন্ধন সনদ
আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের একটি চেক বইয়ের পাতা
একটি মোবাইল ফোন (Vivo Y17s)
তার নামে নিবন্ধিত দুটি সিমকার্ড
অনলাইন জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি
(এনআইডি নম্বর: ৬৪৫৮১২৬৩১২)
ভুয়া পরিচয়ে বাংলাদেশি নাগরিক সেজে কার্যক্রম
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, অভিযুক্ত তোহা প্রতারণার মাধ্যমে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার মাস্টারপাড়া, পদুয়া এলাকার ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার করে বাংলাদেশি জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করেন এবং নিজেকে বাংলাদেশি নাগরিক পরিচয়ে বিভিন্ন স্থানে কার্যক্রম পরিচালনা করতেন।
মানবপাচার ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগ
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, তিনি রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় মানিলন্ডারিং কার্যক্রম পরিচালনা করতেন এবং অসহায় রোহিঙ্গাদের প্রলোভন দেখিয়ে মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। পাশাপাশি বিভিন্ন সন্ত্রাসী ও জঙ্গি গোষ্ঠীর অর্থ যোগানদাতা হিসেবেও তার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আরও জানা যায়, ভুয়া পাসপোর্ট তৈরির একটি চক্রের মূল সমন্বয়ক হিসেবেও কাজ করতেন তিনি। উদ্ধার হওয়া বৈদেশিক মুদ্রাগুলো পার্শ্ববর্তী দেশে পাচারের উদ্দেশ্যে শুল্ক ও কর ফাঁকি দিয়ে বহন করা হচ্ছিল বলে ধারণা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
থানায় মামলা
এ ঘটনায় গত ১৫ মে উখিয়া থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নম্বর-৪৬। এতে স্পেশাল পাওয়ার অ্যাক্টের ২৫(বি)(এ) ও ২৫(ডি) ধারাসহ দণ্ডবিধির ৪১৯, ৪২০, ৪৬৮ ও ৪৭১ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)-এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ সিরাজ আমিন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মানবপাচার, প্রতারণা ও আন্তর্জাতিক অপরাধচক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়ে আরও তদন্ত চলছে।