কেরাণীগঞ্জ পাসপোর্ট অফিসে মোস্তফা কামাল-রবীন্দ্রনাথ রায়ের রাম-রাজত্ব-ঘুষ ছাড়া নড়ে না ফাইল
কেরাণীগঞ্জ প্রতিনিধি:
ঢাকার কেরানীগঞ্জ ও আশপাশের এলাকাবাসীর জন্য পাসপোর্ট সেবা পাওয়ার অন্যতম মাধ্যম কেরাণীগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস। কিন্তু বাস্তবে এই অফিসে সেবা পেতে যেন 'চ্যানেল ফি' নামক ঘুষ না দিলে কিছুই হয় না। নির্ধারিত সরকারি ফি জমা দিয়েও মানুষকে গুণতে হচ্ছে অতিরিক্ত হাজার হাজার টাকা। অভিযোগে জানা যায়, যাত্রাবাড়ী আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস মোস্তফা কামাল-রবীন্দ্রনাথ রায়ের হাতে জিম্মি সেবা প্রত্যাশীরা। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশাল বাংলাদেশ (টিআইবি) খানা জরিপে সর্বাধিক দুর্নীতিগ্রস্থ সেবা খাত হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে পাসপোর্ট খাত। এর পরেই আছে আইন শৃংখলা রক্ষাকারী সংস্থার বদনাম। প্রবাদ আছে কয়লা ধুইলে ময়লা যায়না, পাসপোর্ট অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের দুর্নীতি কখনও মুছে ফেলার নয়। বিভিন্ন অনুসন্ধানে তাদের দুর্নীতির স্বেতপত্র সবার শীর্ষে উঠে এসেছে। ফ্যাসিস্ট হাসিনা পালিয়ে গেলেও তাদের দোসররা এখনও পাসপোর্ট অধিদপ্তর দাপিয়ে বেড়াচ্ছে।
পাসপোর্টের সেবা প্রত্যাশীদের অভিযোগের ভিত্তিতে জানা যায়, মোস্তফা কামাল ও রবীন্দ্রনাথ রায় এমন কোনো সেবা প্রত্যাশী নেই যাদের সাথে রূঢ় আচরণ করেন না তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তারা মানুষের সাথে সব সময় এমনকি পাসপোর্টের কর্মচারিদের সাথেও খারাপ ভাষায় ধমকের সাথে কথা বলেন। তাদের এই কর্মজীবনের মানুষকে হয়রানি করা বা ভুল তথ্য উপস্থাপন করে টাকা হাতিয়ে নেয়ার পায়তারায় তারা ব্যস্ত বলে তথ্য পাওয়া গেছে। সরষের ভেতর ভুত থাকলে সেই ভূত তাড়াবে কে, এরকম প্রবাদ প্রবচন আমাদের সমাজে চলমান। পাসপোর্ট অধিদপ্তরের দুর্নীতি যেন এখন মানুষের মধ্যে ওপেন সিক্রেট।
প্রাথমিক সূত্রে জানা যায়, সাবেক ডিডি শেখ মহের আলী যশোরে বদলী হলেও তিনি দুর্নীতির ২ মহানায়কদের শেকড় এখানে রেখে গেছেন। তাদের যাদুকরী কারিশমা ছাড়া পাসপোর্টের কোনো সেবাই মিলে না। মোস্তফা কামাল ও রবীন্দ্রনাথ রায়ের একচ্ছত্র দুর্নীতির রাম-রাজত্ব যেন সবাইকে হতবাক করে দিয়েছে।
সূত্রে জানা যায়, তাদের এই দুজনের দুর্নীতির লাগাম যেন কোনোভাবেই টেনে ধরা যাচ্ছে না। জানা যায়, তারা পাসপোর্ট প্রত্যাশীদের জিম্মি করে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়ার এক ভয়ঙ্কর অভিযোগে উঠে এসেছে। তাদের সাথে আরো রয়েছে একাধিক আনসার সদস্য এবং বহিরাগত আবু সাঈদ,মোস্তফা কামাল-রবীন্দ্রনাথ নামে এক জনৈক দালাল। এই দালালের রেফারেন্স ছাড়া যেন কোন ফাইলই জমা হয় না। তাহলে আবু সাঈদের এই একচ্ছত্র আধিপত্যের পেছনে মোস্তফা কামাল ও রবীন্দ্রনাথ রায় শেল্টার দিচ্ছে বলেও জানা গেছে। যেকোন অজুহাতেই আবু সাঈদকে দিয়ে তারা অফিসের সব ফাইল জমা করিয়ে থাকেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। মোস্তফা কামাল ও রবীন্দ্রনাথ রায় দুর্নীতির মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে পাশাপাশি দালাল আবু সাঈদকে সম্পদের পাহাড় গড়তে সহায়তা করে যাচ্ছে বলেও একাধিক অভিযোগে উঠে এসেছে। বিভিন্ন মাধ্যমে আরো জানা যায়, আবু সাঈদ পাসপোর্টের দালালী করে কেরাণীগঞ্জে তিনতলা বাড়ী নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে বলেও সবার নজরে এসেছে।
প্রজাতন্ত্রের সরকারি কর্মচারিদের সাথে দালালের দৌরাত্ম যেন তাদেরই ইন্ধনে আবু সাঈদ পাসপোর্ট অফিসে বেপরোয়া। তাকে যেন কোনভাবেই দমানো যাচ্ছে না। অভিযোগ উঠেছে আবু সাঈদকে সরাসরি ইন্ধন দিচ্ছে মোস্তফা কামাল ও রবীন্দ্রনাথ রায়। অভিযোগে জানা যায়, মোস্তফা কামাল ও রবীন্দ্রনাথ রায়ের ছত্রছায়ায় একজন দালাল কিভাবে অফিসের ভেতর দৌরাত্রা চালিয়ে যাচ্ছে এই প্রশ্ন এখন সবার মুখে মুখে।
সূত্রে আরো জানা যায়, মোস্তফা কামালের কাছে কোনো ফাইল গেলে তিনি মানুষকে নানা কায়দায় ফন্দি ফিকির তকমা দিয়ে টাকা হাতিয়ে নিয়ে থাকে। তার ডান পাশে রয়েছে দালাল আনসার সদস্য বশির, আনোয়ার, আরমান, অন্যদিকে রয়েছে শরীফ, জসিম, ছালামসহ আরো নাম না জানা অনেক দালালচক্র।
সরকার নির্ধারিত ১০ বছরের মেয়াদী, ৪৮ পাতার পাসপোর্টের জন্য ব্যাংকে জমা দিতে হয় ৫৭৫০ টাকা। অথচ বাস্তবে সাধারণ আবেদনকারীদের কাছ থেকে 'চ্যানেল ফি' নামে আদায় করা হচ্ছে ২ থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত। কেউ কেউ এই ফি না দিলে মাসের পর মাসেও পাসপোর্ট হাতে পাচ্ছেন না।
তথ্য সংশোধনের মতো বিষয়ে আরও ভয়াবহ অবস্থা। সংশোধনের ক্ষেত্রে দাবি করা হচ্ছে ২০০০ থেকে সর্বোচ্চ পরিমাণ টাকাও। এসব টাকা মূল অফিসের কাউন্টারে না গিয়ে চলে যাচ্ছে কথিত দালাল বা অফিস-সংশ্লিষ্ট অসাধু ব্যক্তিদের পকেটে। কেরানীগঞ্জের বাসিন্দা আবু তালেব বলেন, "আমি নিয়মমাফিক টাকা জমা দিয়ে আবেদন করেছিলাম। কিন্তু অফিসে গিয়ে জানতে পারলাম, ১৫০০ টাকা না দিয়ো আমার ফাইল নাকি ধীরগতিতে চলবেল বাধ্য হয়ে দিতে হয়েছে। "আরেক নারী অভিযোগ করে বলেন, "ছোট একটা বানান সংশোধনের জন্য ২ হাজার টাকা দাবি করেছে। নিয়ম বলতেই ওরা হেসে বলল, 'এটা আমাদের চ্যানেলের নিয়ম'। চ অভিযোগ উঠেছে আবু সাঈদ নামের এই দালাল অফিসের কোন স্টাফ বা সংশ্লিষ্ট কেউ না, তারপরও তার এত ক্ষমতার উৎস কিভাবে হলো, নেপথ্যে রয়েছে মোস্তফা কামাল এপিএস উপ-পরিচালক ও রবীন্দ্রনাথ রায় একাউনটেন্ট তাদের ক্ষমতার পকেটে নিয়ে এই আধিপত্যের বিস্তার চরমে। সবই আওয়ামী ক্ষমতাবলে বলে তারা আজও বহাল তবিয়তে। যাত্রাবাড়ী আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস ঘিরে এমন দালাল-নির্ভর দুর্নীতি নতুন নয়, তবে দিনে দিনে তা সীমাহীন হয়ে উঠছে। প্রশাসনের নীরবতা ও নজরদারির অভাবে এসব অপকর্ম এখন সবার মুখে মুখে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, নির্ধারিত ফি দিয়েও যদি সেবা না মেলে, তাহলে এই সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন কী? সরকার যেখানে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছে, সেখানে পাসপোর্ট অফিসে এই তুঘলকি কান্ড- মোস্তফা কামাল-রবীন্দ্রনাথ রায়ের একক নিয়ন্ত্রণে কেন চলবে? ভুক্তভোগীরা জানান, দুর্নীতি দমন কমিশন এবং সরকারের আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠিন নজরদারীর মাধ্যমে তাদের ব্যাপারে অনুসন্ধান করে তাদের সম্পদের খোজ খবর নিবেন এই প্রত্যাশা এখন আম জনতার। ভুক্তভোগী অন্যান্য কর্মচারিরা জানান, এ বিষয়ে জরুরি তদন্ত করে দায়ীদের দ্রুত অন্যত্র অপসারণ করে দালাল-নির্ভরতা বন্ধে কঠোর
মনিটরিং ব্যবস্থা এখন সময়ের দাবী। তাদের দুর্নীতির ব্যাপারে অনুসন্ধান চলছে, আগামীতে বাড়ীর ছবিসহ প্রকাশ করা হবে।
সূত্র:জাতীয় সাপ্তাহিক বিশ্ব মিডিয়া