৪ বছরেও শেষ হয়নি তিলক-সামন্তসেনা সংযোগ সড়কের আরসিসি ব্রিজ,দুর্ভোগে স্থানীয়রা
মো: আল-মাহফুজ শাওন
খুলনার রূপসা উপজেলার তিলক থেকে সামন্তসেনা সংযোগ সড়কের গুরুত্বপূর্ণ আরসিসি ব্রিজটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছিল চার বছর আগে। ৪ কোটি ৪৩ লাখ ৮১ হাজার ৯৯ টাকা ব্যয়ে শুরু হওয়া এ প্রকল্পের কাজ এক বছরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও দীর্ঘ চার বছরেও তা সম্পন্ন হয়নি। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সড়ক ব্যবহারকারী সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী ও পদ্মবিল এলাকার কৃষকেরা।
২০২২ সালের ১৪ জুলাই মেসার্স রূপালী কনস্ট্রাকশন, মেসার্স আমিরুন এন্টারপ্রাইজ ও মোঃ আনোয়ার হোসেনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কাজ শুরু হয়। ২০২৩ সালের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখনো মূল সেতুর দুই প্রান্তের সড়কের সাথে সংযোগ (অ্যাপ্রোচ) তৈরি করা হয়নি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পাকা সড়কের মাঝখানে ব্রিজের কাজ শুরু হওয়ায় শুরুতে স্বস্তি ও আশার সঞ্চার হলেও এখন সেটি তাদের জন্য দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সড়কটি খুলনা-মোংলা মহাসড়কের সঙ্গে সংযুক্ত হওয়ায় উপজেলা সদর ও তিলকে অবস্থিত আব্দুল ওয়াদুদ মেমোরিয়াল চক্ষু হাসপাতালে যাতায়াতের জন্য এটি ছিল গুরুত্বপূর্ণ পথ।
পাথরঘাটা গ্রামের বাসিন্দা সাইদ বলেন, “চার বছর ধরে আমরা চরম কষ্টে আছি। জমির ধান ভ্যানে নিতে পারি না, ৩-৪ কিলোমিটার মাথায় করে বহন করতে হয়। শিক্ষার্থীরা ঘেরের বেড়ি ঘুরে অনেক পথ পাড়ি দেয়। ঠিকাদারদের শুধু আশ্বাস, কাজের অগ্রগতি নেই।”
একই গ্রামের নিয়ামুল হোসেন বলেন, “রাস্তার অবস্থা এতটাই খারাপ যে ফসল আনা-নেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছে। অসুস্থ রোগীকেও হাসপাতালে নেওয়া যায় না। ঠিকাদার বা সাব-কন্ট্রাক্টরদের কাউকেই কাজের জায়গায় পাওয়া যায় না।”
তিলক গ্রামের বাসিন্দা ও সাবেক ইউপি সদস্য আবুল কালাম গোলদার বলেন, “এই সড়কটি আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কৃষি ও মৎস্য উৎপাদন নিয়ে যাতায়াতে মারাত্মক সমস্যা হচ্ছে। দ্রুত কাজ শেষ হলে আমরা স্বস্তি পাবো।”
এদিকে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক বিকাশ মিত্র জানান, জনদুর্ভোগ বিবেচনায় উপজেলা প্রকৌশলীর সাথে কথা হয়েছে এবং আগামী জুন মাসের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার আশ্বাস পাওয়া গেছে।
ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান আমিরুন এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী জিয়া বলেন, কাজের মান ঠিক রাখতে অতিরিক্ত গাইডওয়াল নির্মাণ ও পাইলিং কাজের কারণে বিলম্ব হয়েছে। “দুই পাশে গাইডওয়াল না দিলে অ্যাপ্রোচ ভেঙে পড়ার আশঙ্কা ছিল। তাই সময় বেশি লেগেছে। আশা করছি আগামী দুই মাসের মধ্যে কাজ শেষ হবে,” বলেন তিনি।
রূপসা উপজেলা প্রকৌশলী শোভন সরকার জানান, “ব্রিজের প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। অবশিষ্ট কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দীর্ঘদিনের ভোগান্তি থেকে মুক্তি পেতে দ্রুত ব্রিজটির নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করা হবে।