নিকলীর হাওরে আকস্মিক ঢল ও অতিবৃষ্টি: সংকটে কৃষক,স্বেচ্ছাশ্রমে পাশে ছাত্রদল
আল-আমিন হাসান : নিকলী উপজেলা প্রতিনিধি
কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলায় উজানের পাহাড়ি ঢল ও টানা অতিবৃষ্টিতে হাওরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ কৃষিজমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। বোরো ধান কাটার মৌসুমে এমন পরিস্থিতিতে প্রান্তিক কৃষকেরা পড়েছেন চরম অনিশ্চয়তা ও আর্থিক সংকটে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, আকস্মিক ঢলে উপজেলার অধিকাংশ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় পাকা ধান দ্রুত কেটে ঘরে তোলার তাগিদ তৈরি হয়েছে। কিন্তু যান্ত্রিকভাবে ধান কাটার জন্য ‘কম্বাইন হারভেস্টার’ মেশিনের তীব্র সংকট এবং শ্রমিকের উচ্চ মজুরির কারণে কৃষকেরা বিপাকে পড়েছেন। বর্তমানে বাজারে ধানের দাম মণপ্রতি ৭০০ থেকে ৮০০ টাকার মধ্যে থাকলেও শ্রমিকের দৈনিক মজুরি ১ হাজার ৭০০ থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত চাওয়া হচ্ছে। প্রতিকূল আবহাওয়ায় একজন শ্রমিক দিনে গড়ে তিন মণ ধান কাটতে পারছেন। ফলে উৎপাদন ব্যয়ের তুলনায় আয় কমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এ ছাড়া হাওরাঞ্চলে নৌকার স্বল্পতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। অনেক কৃষক কাটা ধান সময়মতো নিরাপদ স্থানে নিতে না পারার আশঙ্কায় উদ্বেগে রয়েছেন। এতে সম্ভাব্য ফসলহানির ঝুঁকি আরও বেড়ে গেছে।
এমন সংকটময় পরিস্থিতিতে নিকলী উপজেলা ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে কৃষকদের ধান কেটে দিচ্ছেন। শুধু ধান কাটা নয়, কাটা ফসল নৌকায় করে নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দেওয়ার কাজেও তারা সহায়তা করছেন। স্থানীয়দের মতে, এই উদ্যোগ কৃষকদের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ সহায়তা হিসেবে দেখা দিয়েছে।
নিকলী উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক হৃদয় হাসান বলেন, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে দাঁড়ানো তাদের সামাজিক দায়িত্বের অংশ। তিনি বলেন, “কৃষকের ঘরে ফসল উঠাতে পারলে তাদের কষ্ট কিছুটা লাঘব হবে। সেই জায়গা থেকেই আমরা স্বেচ্ছাশ্রমে কাজ করছি।”
স্থানীয় কয়েকজন কৃষক জানান, আকস্মিক ঢল ও বৃষ্টির কারণে যখন ফসল হারানোর শঙ্কা দেখা দিয়েছিল, তখন এই সহায়তা তাদের জন্য স্বস্তি এনে দিয়েছে। তাঁদের ভাষায়, সময়মতো ধান কেটে ঘরে তুলতে পারা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, হাওরাঞ্চলে আকস্মিক বন্যা নতুন কোনো ঘটনা নয়। প্রতি বছরই এ সময়টায় আবহাওয়ার অনিশ্চয়তা কৃষকের জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে দাঁড়ায়। তাই আগাম প্রস্তুতি, যান্ত্রিক সহায়তা বৃদ্ধি এবং শ্রমিক ব্যবস্থাপনায় সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে তারা মনে করেন।