হাওরে নদ নদীর পানি বৃদ্ধি,ধানের স্তূপে চারা-নতুন করে দূর্যোগের কবলে কৃষকরা
বিজয় কর রতন,হাওর অঞ্চল প্রতিনিধি: শুক্রবার পহেলা মে বিকাল থেকে নতুন করে পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে অনেক জমি। এ নিয়ে কিশোরগঞ্জের হাওরে মোট ৬ হাজার ৭ শত ৬৮ হেক্টর পাকা ধান তলিয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ২৫ হাজারের বেশি কৃষক আজ শনিবার ভোর থেকে থেমে থেমে ঝড় বৃষ্টি শুরু হয়েছে। কৃষকরা হাওরে নামতে পারছে না। নতুন করে দূর্যোগের কবলে পড়েছেন তারা। পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী আজ শনিবার ইটনায় ধনু ও বোলাই নদীর পানি ২ সেন্টিমিটার বেড়ে ৩.০১ মিটারে দাঁড়িয়েছে । মেঘনা নদীর পানি ৫ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে ২. ৮০ মিটার এবং অষ্টগ্রামে কালনী নদীর পানি ৫ সেন্টিমিটার বেড়ে ২.৩০ মিটারে পৌঁছেছে। ভৈরবে মেঘনা নদীর পানি বেড়েছে ২ সেন্টিমিটার। বর্তমানে এসকল নদী গুলোর পানি বিপদসীমার ১১৪.৩৯৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। শুক্রবার দিনভর আবহাওয়া কিছুটা অনুকূলে থাকলেও কৃষকরা ভেজা ধান শুকাতে পারেনি , কারণ অধিকাংশ ধানের খলা ধান সহ তলিয়ে রয়েছে । ধানে চারা গজিয়ে পচা গন্ধ আসছে । হাওরে বর্তমানে উঁচু জায়গা খুব কম অধিকাংশ কৃষকের বাড়ির আঙিনা দেশীয় ভাষায় ( খলা) বলে । ওই সমস্ত খলা পানিতে তলিয়ে রয়েছে। মিঠামইন , অষ্টগ্রাম , ইটনার অলওয়েদার সড়কের পাশের কৃষকদের ধান রাস্তায় শুকানোর ব্যবস্থা রয়েছে। অন্যদিকে মিঠামইন ও ইটনার হাওরে অস্থায়ী কৃষকরা রয়েছে চরম বিপাকে। তারা ৬ মাসের জন্য এসকল হাওরে জিরাত করে ধান চাষ করতে আসে। বহিরাগত কৃষকদের জিরাত বলা হয়ে থাকে। তারা হাওরের মাঝখানে ছোট ছোট খেড়ের ঘর বেঁধে তারা গবাদি পশু নিয়ে হালচাষ করে আসছে যুগ যুগ ধরে। হটাৎ পানি আসায় চরম বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। আগাম জাতের ধানের কিছু কিছু জমি প্রথম দিকে কেটে ফেললেও বাকী জমি বর্তমানে পানিতে তলিয়ে রয়েছে। ঘরের চারপাশে পানি । কৃষকরা কাটা ধান বস্তায় ভরে টেক দিয়ে পানির উপর রেখে দিয়েছে। ঘরের ভিতর পানি, অনেক কৃষক বাজার থেকে চিরা গুড় এনে খেয়ে কোন রকম দিন পাড় করছে । খাবারের পানির তীব্র সংকট। অস্থায়ী টয়লেট পানিতে ভাসছে। অষ্টগ্রামে হাওরের কৃষক মুকুল জিরাতি বলেন, ১১ একর জমি চাষ করেছেন। মাত্র ৩ একর জমি কাটতে পেরেছেন । বাকী ৮ একর জমি পানির নিচে। ৩ একরের ধান বস্তায় পুরে রেখেছেন। হয়তো ধানে চারা গজিয়েছে । অন্যান্য কৃষকের ও ধানে গ্যাজ এসে পচাঁ গন্ধে হাওরের বাতাস ভারী হয়ে আসছে। এ হাওরে প্রায় শতাধিক কৃষকের কয়েক হাজার মন ধানের জমি এখনো পানিতে তলিয়ে রয়েছে। বর্তমানে এসকল ধান পানির নিচ থেকে কাটতে একজন শ্রমিককে ১৫ শত টাকা দিতে হচ্ছে। ছোট ছোট নৌকা ভাড়া করে নিয়ে ধান আনতে হয় । কৃষকরা ধান কাটার খরচের হিসাব মিলাতে পারছে না। প্রায় প্রতিটি জমিতেই পানি। পানির মধ্যে হারভেস্টার ও ধান কাটতে পারছে না। চপ্টার হাওরের কৃষক তোফাজ্জল মিয়া বলেন, ধান পানির তলে ডুইব্বা গেছে এই পচা ধান কাইট্টা আইন্না কোন লাভ নাই। ৩ একর জমি করছিলাম। বাড়ির সামনে খলায় ও পানি বন্দে ও পানি । এহন যে কি করবো চিন্তা কইরা পাইতাছিনা জি , পুত লইয়া ঢাকা শহরে যাইতে হইবো । এছাড়া কোন পথ নাই । ৩ উপজেলার মধ্যে মিঠামইনের ঢাকী, ঘাগড়া, চমোকপুর , হোসেনপুর, শিয়ারা , ধোবাজোড়া , গোবদীঘী , মিঠামইন সদর ও কাটখাল।
ইটনা উপজেলার জয়সিদ্ধি , মৃগা , ডুইয়ার পাড়, ধনপুর, সহিলা,সিলনী, । অষ্টগ্রামের বাধাঘাট, ইকুরদিয়া, ভাতশালা, ও বাঙালপাড়ার হাওরের অবস্থা খুবই ভয়াবহ। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ডাঃ সাদিকুর রহমান জানান, শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত মাঠ পর্যায়ের তথ্য মতে ৬ হাজার ৭ শত ৬৮ হেক্টর জমি পানিতে তলিয়ে রয়েছে। এর সংখ্যা আরো বাড়তে পারে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে ইটনা, অষ্টগ্রাম ও মিঠামইন। পানি আর না বাড়লে বড় ধরনের ক্ষতির আশংকা কমতে পারে। কিশোরগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ সাজ্জাদ হোসেন বলেন, পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, কৃষকদের বহু আগেই মাইকিং করে দ্রুত ধান কাটার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাসে এ জেলায় মাঝারি থেকে ভারি ঝড় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এতে পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কা রয়েছে।
কিশোরগঞ্জ ৪-আসনের এমপি মুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট ফজলুর রহমান ২ দিন যাবত মিঠামইন,ইটনা, অষ্টগ্রামের হাওরে পানিতে তলিয়ে যাওয়া জমি পরিদর্শন করছেন। তিনি কৃষকদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে হাওরের পরিস্থিতি দেখার জন্য আমি এখানে এসেছি । আমি হাওরের সন্তান আপনাদের কষ্ট আমি বুঝি । আপনারা ধৈর্য হারাবেন না। সাহসের সাথে দূর্যোগ মোকাবেলা করুন।সরকার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে রয়েছে। এবং আর্থিক সহায়তা প্রদান করবে। তিনি ৩ উপজেলার প্রসাশনের কর্মকর্তাদের নিয়ে পৃথক পৃথক বৈঠক করেছেন।